দেশীয় জাতের পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক

দেশীয় জাতের পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক

দেশীয় জাতের পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক। কম সময়ে বেশি ফলন হওয়ায় ভারতীয় জাতের বীজের দিকে ঝুঁকছেন তারা।


বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিজেআরআই) গবেষণা দক্ষতার অভাবে ভারতীয় বীজের চাহিদা দিন দিন ব‍াড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


তবে বিজেআরআই কর্মকর্তারা বলছে, দেশীয় পাটের ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। গবেষণারও উন্নতি হয়েছে।


তবে বাস্তবে সেই চিত্র দেখা যায়নি। তাই দেশীয় ও তোষা (৯৮৯৭/ও-৭১) জাতের পরিবর্তে জেআরও-৫২৪ জাতের ভারতীয় পাট বীজের চাহিদা অনেক বেশি।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশীয় তোষা জাতের পাটে‍র জীবনকাল প্রায় ১২০ দিন। আর ভারতীয় জেআরও-৫২৪ জাতের পাটের জীবনকাল ১০০ দিন। এছাড়া ভারতীয় পাটের ফলনও তুলনামূলক বেশি।


কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ ‌উইংয়ের মহাপরিচালক ফজলে ওয়াহেদ খোন্দকার বলেন, পাট বীজ মানেই ভারত নির্ভরতা। আমাদের দেশে যে পরিমাণ বীজের প্রয়োজন তার উৎপাদন হয় না।


‘অনেক আগে থেকেই ভারতীয় পাট বীজের চাহিদা রয়েছে। বীজের আমদানি নির্ভরতা কমাতে গবেষণা চলছে। গবেষণা বাস্তবায়ণের লক্ষ্যে কিছু প্রকল্পও চলমান আছে। এগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে এ বীজের আমদানি নির্ভরতা কমবে।’


তিনি বলেন, ‘ভারতীয় পাটের আয়ুষ্কাল কম, ফলন বেশি। সেভাবে আমরা দেশীয় বীজের উন্নতি করতে পারিনি।’


বিএডিসি সূত্র জানায়, দেশে প্রতিবছর ছয় হাজার থেকে সাড়ে ছয় হাজার মেট্রিক টন বীজের প্রয়োজন। এর মধ্যে বিএডিসি উৎপাদন করে এক হাজার মেট্রিক টন। যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। এজন্যে প্রতিবছরই ভারত থেকে বীজ আমদানি করা হয়।


কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি বছরে ভারত থেকে প্রায় ৬ হাজার ১০০ মেট্রিক টন বীজ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরেও একই পরিমাণ বীজ আমদানি করা হয়।


 জানা যায়, মাত্র ৯০ দিনে এ জাতের পাট পরিপক্ক হয়। এ ফসল কর্তন করে অন্য ফসলের জন্য জমিও দ্রুত প্রস্তুত করা যায়। পাটের আঁশের মানও উন্নত।  


কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা  বলেন, কোনো কারণে বিদেশ থেকে যদি বীজ আমদানি ব্যহত  হয়ম তাহলে সঙ্কট সৃষ্টি হবে। তবে কৃষকদের উৎপাদিত বীজ ন্যায্য মূল্যে ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হলেও চাষিরা উফশী জাতের বীজ উৎপাদনে আগ্রহী হবেন।


‘কিন্তু সরকারের বীজ নীতিমালা অনুযায়ী কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় এ মুহূর্তে কৃষকদের কাছ থেকে কেনা সম্ভব হচ্ছে না।’


এদিকে বীজ আমদানি নির্ভরতা কমাতে ‘উচ্চ ফলনশীল উফশী পাট ও পাট বীজ উৎপাদন এবং উন্নত পাট পচন’ প্রকল্প নিয়েছে সরকার।


১৮৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১১ সালে জুলাইয়ে প্রকল্পটি শুরু হয়। যা শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের জুনে। বর্তমানে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৫৯ শতাংশ।


এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রকল্পটির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

More News

Warning: file_get_contents(http://www.sandwipnews24.com/temp/.php): failed to open stream: HTTP request failed! HTTP/1.1 404 Not Found in /home/sandwipnews/public_html/m/news_details.php on line 77

Warning: Invalid argument supplied for foreach() in /home/sandwipnews/public_html/m/news_details.php on line 79