লবন চাষে ফিরে এল হাসি

লবন চাষে ফিরে এল হাসি

টেকনাফ উপজেলায় চলতি ২০১৬-১৭ মৌসুমে ২৮৫০ একর জমিতে লবণ চাষ হচ্ছে। উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নে ২৬৬৫ জন লবণ চাষী উৎপাদন কাজে দিন পার করছে। গত ২০১৫-১৬ মৌসুমে ২৭০০ একর জমিতে ২৫৩০ লবণ চাষী ৮৪২০০ মে.টন লবণ উৎপাদন করে বলে জানিয়েছেন বিসিক টেকনাফ কেন্দ্রের ইনচার্জ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন,উপজেলার টেকনাফ, সাবরাং, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নে লবণ চাষ হয়। গত মৌসুমের চেয়ে চলতি বছরে লবণ চাষ বেড়েছে। আওহাওয়াগত কারণে এবার লবণ উৎপাদন চলতি মৌসুমে ১ লাখ মে.টন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ওই কর্মকর্তা।


টেকনাফ ইউনিযনের মৌলভী পাড়ার চাষী ফজল আহমদ বলেন, এ বছর ২০০ কানি জমিতে লবণ চাষ করছেন তিনি। প্রতি কানি জমিতে লবণ উৎপাদনে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা খরচ হয়। প্রতিমন ২৮০-৩০০ টাকা দরে বর্তমানে মাঠে পলিথিন পদ্ধতির খোলা লবণ বিক্রি করে থাকেন তিনি। প্রতিদিন ২/৩ ট্রাক লবণ ঢাকায় মিল মালিকদের নিকট বিক্রি করে থাকেন। বর্তমান মুল্যে চাষীরা বেশ খুশি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


টেকনাফ লবণ চাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য মো ঃ শফিক মিয়া বলেন, যথেষ্ট পরিমাণ লবণ উৎপাদন হচ্ছে। চাষীরা বেশ মূল্য পাচ্ছেন। কিন্তু একটি চক্র লবণ আমদানি করে দেশীয় লবণের মূল্য কমিয়ে এ শিল্পকে ধ্বংস করতে তৎপর রয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের নজরদারী জরুরী বলেও জানান তিনি।


প্রতিট্রাকে ২০ মে.টন লবণ বোঝাই করে তা পরিবহন করা হয় বলে জানান কাভার্ড ভ্যান চালক জিয়াবুল হোসেন। তিনি বলেন, গাড়ি প্রতি ৪০/৪২ হাজার টাকা ভাড়ায় টেকনাফ থেকে নারায়নগঞ্জ লবণ মিলে পৌছেঁ দিয়ে থাকি। এ ছাড়া ১৭/১৮ হাজার টাকায় প্রতি ট্রাক ভাড়া যায় চট্ট্রগ্রামের পটিয়ায়। তিনি আরো বলেন, টেকনাফ থেকে প্রতিদিন ২০/২২ টি ট্রাক লবণ বোঝাই করে ঢাকা, চট্‌্রগ্রামের মিলে নিয়ে যাওয়া হয়।


বিসিক সূত্রে জানা গেছে , চলতি মৌসুমে দেশে ৬৩০০০ একর জমিতে ১৮ লাখ মে.টন লবন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করেছে সরকার। এ সব লবণ কক্সবাজার জেলার টেকনাফ, রামু, পেকুয়া, চকরিয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও কক্সবাজার সদর উপজেলা এবং চট্টগ্রামের বাশঁখালী উপজেলা হতে উৎপাদিত করে লবণ চাষীরা।


গত ২০১৫-১৬ মৌসুমে দেশে ৬০১৩০ একর জমিতে ১৫.৫৫ লাখ মে. টন লবণ উৎপাদন হয় বলে জানান বিসিক বাশঁখালী কেন্দ্রের ইনচার্জ হাসিক কাউছার। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে চট্ট্রগ্রাম জেলার বাশঁখালী উপজেলায় ৮০৭০ একর জমিতে ৫৬৫৬ জন লবণ চাষী কাজ শুরু করে। ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৯১ হাজার মে.টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। গত ২০১৫-২০১৬ মৌসুমে এ উপজেলায় ৮ হাজার একর জমিতে ৫৬০০ জন লবণ চাষী কাজ করে ১ লাখ ৮৫ হাজার মে.টন লবণ উৎপাদন করেছিলো বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। এ ছাড়া চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নতুন করে চলতি মৌসুমে ২২ একর জমিতে লবণ চাষ শুরু হয় এবংএ পর্যন্ত ১০০ মে/টন লবণ উৎপাদন হয় বলে জানান বিসিকি কর্মকর্তা হাসিব কাউছার।

More News

Warning: file_get_contents(http://www.sandwipnews24.com/temp/.php): failed to open stream: HTTP request failed! HTTP/1.1 404 Not Found in /home/sandwipnews/public_html/m/news_details.php on line 77

Warning: Invalid argument supplied for foreach() in /home/sandwipnews/public_html/m/news_details.php on line 79