হালদায় কমছে মা-মাছ, নদীর তলদেশে পরীক্ষা

হালদায়  কমছে মা-মাছ, নদীর তলদেশে পরীক্ষা

হালদায় মা মাছ কমছে কেন তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখছেন গবেষকরা। মা মাছের বাসস্থানের গভীরতা নির্ণয় এবং মাটি ও পানির গুণাগুণ দেখতে আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে এই প্রথমবারের মতো হালদা নদীর তলদেশে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ারের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি দল গতকাল শনিবার সকালে মদুনাঘাট থেকে সত্তারঘাট পর্যন্ত হালদা নদী পরিদর্শন করেন। এই প্রথম অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে পরিদর্শন দল নদী পরিদর্শন করে পানি ও মাটির আলামত সংগ্রহ করে। পরিদর্শন দল নদীর যেখানে গভীর ঘূর্ণায়মান কুপ রয়েছে সেখানে নেমে নদী ও কুপের গভীরতা পর্যবেক্ষণ করে আলামত সংগ্রহ করে। পরিদর্শন দলের সাথে ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তার উননেছা শিউলী, রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম, হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মনজুরুল কিবরীয়া, ইসাবেলা ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট নদী গবেষক ড. আনিসুজ্জামান খান, ফাউন্ডেশনের সদস্য ফজলে রাব্বি, সাকিল আহমেদ, আন্ডারওয়াটার এক্সপ্লোরার এস এম আতিকুর রহমান, শরীফ সারওয়ার প্রমুখ।


গবেষকরা নদীর আলমের কুম এবং নাপিতের ঘাটা এলাকায় এই পরীক্ষা চালান। এই পরী ার মাধ্যমে তারা হালদার মা-মাছের সংখ্যা ক্রমাগত কমে যাওয়ার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন। হালদা নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করা কয়েকজন গবেষক বলেন, এতদিন ধরে হালদা নিয়ে গবেষণা নদীর পানির উপরিভাগ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিলো। এই প্রথমবারের মতো আন্ডারওয়াটার এক্সপ্লোরার এর সাহায্যে নদীর তলদেশ পর্যবেক্ষণ করা হলো। এর মাধ্যমে মাছের জন্য নিরাপদ স্থান নির্ণয় করা হবে বলে জানান তারা। গবেষকরা আরও জানান, হালদা নদীতে মাছেরা ১৯ টি পয়েন্টে বসবাস করে। এই গবেষণার মাধ্যমে নদীর তলদেশে মাছের জন্য নিরাপদ স্থানগুলো এবং মা-মাছেরা যেখানে বসবাস করে সেখানের গভীরতা কতো তা বের করার চেষ্টা করা হবে।


পরীক্ষাকালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, হালদা হল মাছেদের জন্য নির্ভরযোগ্য একটি জায়গা। নদীর এই জায়গাকে স্থানীয় ভাষায় কুম বলা হয়। আমরা এই কুমের মাটি ল্যাবে নিয়ে পরীক্ষা করব।


এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. জিলহ্মুর রহমান চৌধুরী বলেছেন, হালদা নদী জাতীয় সম্পদ। তাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কঠোর অনুশাসন এবং দিক নির্দেশনা মোতাবেক এখন থেকে জেলা প্রশাসন হালদা নদী রক্ষায় প্রয়োজনে তা বাস্তবায়ন করবে।

More News

Warning: file_get_contents(http://www.sandwipnews24.com/temp/.php): failed to open stream: HTTP request failed! HTTP/1.1 404 Not Found in /home/sandwipnews/public_html/m/news_details.php on line 77

Warning: Invalid argument supplied for foreach() in /home/sandwipnews/public_html/m/news_details.php on line 79