আজ বিশ্ব ইস্পাইন দিবস, মেরুদণ্ডের আঘাতে অবহেলা নয়

আজ বিশ্ব ইস্পাইন দিবস, মেরুদণ্ডের আঘাতে অবহেলা নয়

আজ ১৬ অক্টোবর বিশ্ব স্পাইন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য মেরুদণ্ড আপনার অমূল্য সম্পদ, মেরুদণ্ডের যত্ন নিন। স্পাইন বা মেরুদণ্ডের জটিলতায় ভুক্তভোগীর সংখ্যা দেশে কত তার কোনও পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও দেশে ১০০০ জন মানুষের মধ্যে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ জন কোমর বা ঘাড়ের ব্যথায় ভুগছেন। এর মধ্যে হততো এক বা দুইজনের সার্জারি প্রয়োজন হয়।


নিউরোস্পাইন সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও বিএসএমএমইউ’র নিউরো সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের রোগীরা শুরুর দিকে ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকদের কাছে যান। কিন্তু সাধারণ ওষুধ ও ব্যায়ামে সুস্থ হয়ে না উঠলে সার্জনের শরণাপন্ন হন তারা।’


জানা গেছে— পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া, ঘাড়ে আঘাত পেয়ে হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, কোমরে আঘাত পেয়ে দুই পা কিংবা হাত অবশ হয়ে যাওয়া রোগীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মলমূত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো রোগীর সংখ্যাও কম নয়।


ব্যাকপেইনের জন্য ছুটি নেন না এমন মানুষ খুব কম। এ মন্তব্য করে বিএসএমএমইউ’র ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের অধ্যাপক ডা. একেএম সালেক  বলেন, “কেবল মেরুদণ্ড নয়, সংশ্লিষ্ট লিগামেন্ট-সংশ্লিষ্ট পেশীর যে কোনও ‘অ্যাবনরমাল সিচুয়েশন’কে ‘স্পাইনাল ডিজিজ বা স্পাইনাল ডিজকমফোর্ট’ নামে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। আমরা জানি, ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ জীবনে কখনও না কখনও স্পাইন বা ব্যাকপেইনে ভুগে থাকেন।”


তবে স্পাইন ডিজিজের ক্ষেত্রে শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ রোগীদের সার্জারি দরকার হয় না বলেও জানান এই অধ্যাপক। কিন্তু এসব রোগীরা দ্রুত চিকিৎসা না নিলে বড় ধরনের জটিলতায় পড়তে হয় বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।


কম বয়সী ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে কোনও পরীক্ষা ছাড়াই ব্যাকপেইন জটিল বলে ধরে নেওয়া হয়। এ তথ্য জানিয়ে বিএসএমএমইউ’র ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মশিউর রহমান খসরু বলেন, ‘শিশুদের জন্য স্কুলে চেয়ার-বেঞ্চসহ যেসব অ্যাকাডেমিক কারিকুলাম রয়েছে সেগুলো স্বাস্থ্যসম্মত নয়। ভারী স্কুলব্যাগ বহনের কারণে তাদের পিঠে ও ঘাড়ে চাপ পড়ছে। এ কারণে তারা ছোট থেকেই একধরনের মেরুদণ্ডের সমস্যার ভেতর দিয়ে বেড়ে উঠছে। আবার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্যও ক্লাসে কোনও চেয়ার থাকে না। তাদেরকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ক্লাস নিতে হয়। তাই তারাও মেরুদণ্ডের সমস্যায় ভুগছেন। এসব দিকে পরিবর্তন আনতে হবে। নয়তো মেরুদণ্ডের অসুখে ভোগা রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলবে। অবশ্য বিশ্রাম, সঠিক ভঙ্গিতে চলাফেরা, চিকিৎসকের নির্দেশিত ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভাস ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করার মধ্য দিয়ে মেরুদণ্ডের ব্যথাকে প্রতিরোধ করা যায়। তবে খুব বেশি জটিল না হলে অস্ত্রোপচার দরকার হয় না এসব ক্ষেত্রে।’ বাংলাট্রিবিউন অবলম্বনে।

More News

Warning: file_get_contents(http://www.sandwipnews24.com/temp/.php): failed to open stream: HTTP request failed! HTTP/1.1 404 Not Found in /home/sandwipnews/public_html/m/news_details.php on line 77

Warning: Invalid argument supplied for foreach() in /home/sandwipnews/public_html/m/news_details.php on line 79