আজ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস, এই রোগ নিয়ন্ত্রণে চাই সচেতনতা

আজ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস, এই রোগ নিয়ন্ত্রণে চাই সচেতনতা

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ।  এ বছর দিবসটির  প্রতিপাদ্য  হচ্ছে ‘সকল গর্ভধারণ হোক পরিকল্পিত’। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন।


 


রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বজুড়েই ডায়াবেটিস এক নীরব মহামারি। এটি রোধ করা না গেলে এ রোগ আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের টেকসই উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায় হয়ে উঠতে পারে। এবারের প্রতিপাদ্যটি যথার্থ হয়েছে এ কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি ডায়াবেটিস সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির পাশাপাশি দেশের গণমাধ্যমসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।


 


প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গণমুখী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করে বাস্তবায়ন করছে। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে ৩০ পদের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।সারাদেশে গর্ভকালীন নারীদের বিনামূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা ও স্বল্পমূল্যে সেবা দিতে ডায়াবেটিক সমিতির সেবাকেন্দ্রগুলো কাজ করছে।


ডায়াবেটিস একটি মহামারী রোগ। বর্তমান বিশ্বের সর্বাপেক্ষা গুরুতর রোগের মধ্যে এটি অন্যতম। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে চাই সচেতনতা।


বাংলাদেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ মানুষকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সবাইকে শনাক্ত করা সম্ভব হলে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়বে। বিশ্বে প্রতিবছর ৩ লক্ষাধিক নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতেডায়াবেটিস প্রতিরোধে এখনই ব্যবস্থা না নিলে ২০৪০ সালে দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা এক কোটি ৪০ লাখে পৌঁছে যাবে। ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যার দিক থেকে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ দশম স্থানে অবস্থান করছে।


জনসচেতনতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা না থাকার কারণে বাংলাদেশে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ মারাত্মক এ ব্যাধির শিকার। ৩৫ বছর ও তার থেকে ওপরের বয়সীরা এ রোগে আক্রান্ত হন। তবে আমাদের দেশে আর্থসামাজিক অবস্থাসচেতনতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার অভাবে এ দেশের বিপুলসংখ্যক বালকবালিকাও ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া পৃথিবীতে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের হার বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।


দেশে রোগীর সংখ্যা বাড়ায় দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেনডায়াবেটিস প্রতিরোধের অন্যতম উপায় হচ্ছে বাল্যকাল থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপননিয়মিত খেলাধুলাপরিমিত ব্যায়ামনিয়মিত হাঁটা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তাঁরা বলেনউপযুক্ত খাদ্য গ্রহণশারীরিক পরিশ্রমশরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণমানসিক প্রশান্তিধূমপান বর্জননিয়মিত ওষুধ খাওয়াশরীর পরীক্ষাব্লাড গ্লুকোজ পরীক্ষারক্তচাপ পরীক্ষা,দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন সম্পর্কিত চেকআপ ইত্যাদির মাধ্যমে ডায়াবেটিসজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।


দিনদিন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা মূলত খাদ্যাভ্যাসকে দায়ী করেনযেটা বলা হয় অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস। এখানে উচ্চ ক্যালরি খাবার বেশি গ্রহণ হচ্ছে। যেমন বেশি পরিমাণে চর্বিজাতীয় খাবারবেশি পরিমাণে ক্যালরিজাতীয় খাবারগুলো খাওয়াওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকিটা বেড়ে যায়। যদি শারীরিক কার্যক্রম কম থাকেতাহলে সমস্যা হয়। যাদের শারীরিক কার্যক্রম কম থাকেনড়াচড়া কমতাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক থাকে এবং মানসিক চাপ যাদের বেশি থাকেতাদের সমস্যা হয়। মানসিক চাপ তাই কমাতে হবে।


পারিবারিক ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডায়াবেটিস রোগীদের দেখা যায় যে পারিবারিক ইতিহাস পজিটিভ থাকে। এটা হলো টাইপটু ডায়াবেটিসের জন্য।


ডায়াবেটিস আক্রান্তের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে হয় ডায়াবেটিস রোগীদের। তবে শিগগিরই চিরতরে ডায়াবেটিসকে বিদায় জানানো যাবে বলে আশার বাণী শুনিয়েছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। টাইপএ ডায়াবেটিস নিরাময়ে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এবার এই ডায়াবেটিস নিরাময়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছেন তারা। সম্প্রতি মার্কিন চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী নেচার মেডিসিন অ্যান্ড নেচার বায়োটেকনোলজিতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছেযুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতাল ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা মানবদেহে যে কোষটি ইনসুলিন উৎপাদন করেসেটি ইঁদুরের দেহে প্রতিস্থাপন করেছিলেন। ছয় মাস পর্যবেক্ষণের পর দেখা গেছেইঁদুরের দেহেও ওই কোষ থেকে ইনসুলিন উৎপাদিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়এটি দেহের জন্য যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু ইনসুলিনই উৎপাদন করছে। গবেষক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক। তার ছেলে জন্মের পর ডায়াবেটিস ধরা পড়লে তখন থেকেই এই রোগ নিরাময়ের ওষুধ আবিষ্কারে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। উল্লেখ্যডায়াবেটিস (শর্করানিয়ন্ত্রণে না থাকলে ডায়াবেটিক রোগী বিভিন্ন ধরনের জটিলতা যেমনমস্তিষ্কে রক্তক্ষরণহৃদরোগউচ্চ রক্তচাপস্নায়ুরোগকিডনি সমস্যা ও চোখের সমস্যায় ভুগে থাকেন। শরীরে রক্ত থেকে কোষের মধ্যে শর্করা প্রবেশ করা নিয়ন্ত্রণ করে ইনসুলিন। কিন্তু শরীর এই ইনসুলিন উৎপাদন বন্ধ বা অথবা উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হলে ডায়াবেটিস দেখা দেয়। যেহেতু ডায়াবেটিসের কোনো নিরাময় নেইতাই রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করাই এর একমাত্র চিকিৎসা। ডায়াবেটিসের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে যে ইনসুলিন নেওয়া হয় এবং বছর বা মাসব্যাপী প্রতিদিন খাদ্য রশুটিন নিয়ন্ত্রণের যে চেষ্টা চালানো হয় তা বন্ধ করাই এ গবেষণার উদ্দেশ্য। এটা ঠিক যেবাংলাদেশে জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে ডায়াবেটিস রোগী বাড়ছে। মানুষ সচেতন হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

More News

Warning: file_get_contents(http://www.sandwipnews24.com/temp/.php): failed to open stream: HTTP request failed! HTTP/1.1 404 Not Found in /home/sandwipnews/public_html/m/news_details.php on line 77

Warning: Invalid argument supplied for foreach() in /home/sandwipnews/public_html/m/news_details.php on line 79