বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য ঢাকায় ফেসবুকের হেল্পলাইন চালু হচ্ছে

বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য ঢাকায় ফেসবুকের হেল্পলাইন চালু হচ্ছে

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরাসরি অভিযোগ জানানোর কোনও ব্যবস্থা এতদিন বাংলাদেশে ছিল না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কাছে অভিযোগ করে প্রতিকার পেতে তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায় থাকতে হয় ভুক্তভোগীদের। এই সমস্যার শিগগিরই সমাধান হতে যাচ্ছে।


এবার বাংলাদেশেই খোলা হচ্ছে ফেসবুকের জন্য অভিযোগকেন্দ্র বা হেল্প লাইন। এর মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা সরাসরি ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন এবং এখান থেকে ফেসবুক সরাসরি সেসব সমস্যার সমাধান দিতে পারবে। আইসিটি বিভাগেই এ কেন্দ্র খোলা হবে।


ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সোমবার (২২ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকিদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘রবিবার আইসিটি বিভাগে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে ফেসবুকের দক্ষিণ এশিয়া পলিসি প্রোগ্রামের প্রধান রিতেশ মেহতা অভিযোগকেন্দ্র খোলার ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। শিগগিরই অভিযোগকেন্দ্র তথা হেল্পলাইন চালু করা হবে। একইসঙ্গে সেখান থেকে ফেসবুক মনিটরিংও করা হবে।’ এ জন্য ন্যাশনাল হেল্পলাইন ‘৯৯৯’-এর মতোই একটি নম্বর চালুর পরিকল্পনার কথা জানালেন মন্ত্রী।


তিনি বলেন, ‘আমি ফেসবুককে বলেছি তোমরা আমাদের সংস্কৃতি, আচার-আচরণ বোঝে এমন লোককে নিয়োগ দাও। আমার দেশের মানুষকে, আমার দেশের সংস্কৃতি বোঝে– এমন লোক তোমার থাকতে হবে। তা নাহলে সে কীভাবে মনিটর করবে। পশ্চিমা এবং আমার দেশের সংস্কৃতি সে যদি পার্থক্য করতে না পারে তাহলে গাইডলাইন হবে কীভাবে। এই বিষয়গুলো ফেসবুক যদি অ্যাড্রেস করে, আমার জন্য অ্যানাফ।’  


মন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, যেকোনও মূল্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে নিরাপদ রাখতে হবে। ওয়েবসাইট নিয়ে আমার কোনও সমস্যা নেই। ওয়েবসাইট চাইলেই ব্লক করতে পারি। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটা সম্ভব নয়। ফেসবুক অনেক বড় মাধ্যম। আমাদের চাওয়া ‌নিরাপদ ফেসবুক। সুতরাং, ফেসবুক ব্যবহার নিরাপদ করতে পারলে অনেকখানি কাজ সম্পন্ন হবে।’


মন্ত্রী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ফেসবুক কর্তৃপক্ষ শিগগিরই বাস্তবায়ন করবে বলে যে আশ্বাস আমাকে দিয়েছে, সেগুলো হয়ে গেলে আমি ফেক (ভুয়া) আইডি বন্ধের বিষয়ে উদ্যোগ নেবো। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে আইডি খোলার বিষয়ে তাদের বলা যাবে না। বললে এনআইডি অ্যাকসেস (প্রবেশগম্যতা) চাইতে পারে। এটা ওদের (ফেসবুককে) দেওয়া যাবে না। বিকল্প আর কী উপায়ে কাজটি করা যেতে পারে তা নিয়ে আমরা বসবো। বসার পরে নিশ্চয়ই একটা সমাধানের পথ খুলবে।’


আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই বলেছি, ইন্টারেনট আমার প্রথম প্রায়োরিটি। এখনও তাই বলছি। ফলে ইন্টারনেটকে নিরাপদ করতেই হবে, রাখতে হবে। তবে কতটা রাখতে পারবো, জানি না। যেহেতু এটা বন্ধ করা যাবে না, তাই সচল রেখেই আমাকে তা আরও নিরাপদ রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সোশ্যাল মিডিয়া। এই জায়গার মধ্যে অনেকগুলো কনসার্ন আছে। ফেসবুক যারা ব্যবহার করছে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া, অপব্যবহার যাতে না হয় সেটা খেয়াল রাখা। আমার কাছে প্রতিদিন ২০-৩০টা ফোনকল আসে, যেগুলোর বেশিরভাই অভিযোগবিষয়ক। অভিযোগকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই মেয়ে। তাদের অভিযোগও ফেসবুককেন্দ্রিক। তাদের কারও নামে ভুয়া আইডি খোলা হয়েছে,  ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছ, আজেবাজে কথার স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে, বিকৃত ছবি শেয়ার দেওয়া হয়েছে। এসব চলতে দেওয়া যাবে না।’ 


তিনি বলেন, ‘ফেসবুকের সঙ্গে বিটিআরসির একটা যোগাযোগ আছে। ফেসবুকের সঙ্গে এসকেলেট করতে পারে। কিন্তু এটা কন্ট্রোল করার কোনও জায়গা নেই, মনিটর করার কোনও জায়গা নেই। ব্যবস্থা নেওয়ারও কোনও জায়গা নেই। আমি একটা লিংক তৈরি করতে চাই। সুখবর হলো, ফেসবুক রাজি হয়েছে। ওরা রাজি হয়ে বলেছে, আমরা বাংলাদেশকে খুব সিরিয়াসলি নিয়েছি।’


মন্ত্রী জানান, ফেসবুক মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) রক্তদান বিষয়ক একটা সার্ভিস চালু করবে। রক্তদানকে উৎসাহিত করা, রক্তদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে একটা সংযোগ স্থাপন তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ মন্ত্রীকে নিশ্চিত করেছে, বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে তারা এটি চালু করতে যাচ্ছে।


মন্ত্রী আরও জানান, রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি বিভাগে ফেসবুক হেল্পলাইন ও আইপি (ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি) হেল্পলাইন স্থাপন করা হবে। এখান থেকে কপিরাইট দেওয়া হবে না, পেটেন্টও দেওয়া হবে না। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির লোকজনকে সাপোর্ট দেওয়া হবে। যাতে তারা কপিরাইট ও পেটেন্ট পাওয়ার বিষয়ে পরামর্শ পেতে পারে। তিনি আরও জানান, বিটিআরসির অভিযোগ নেওয়ার যে জায়গা, সেটাও ব্যবহার করা হবে। আরও সহজে যেন অভিযোগকারীরা তাদের অভিযোগ দিতে পারে সে উদ্যোগ নেওয়া হবে। খবরঃ বাংলাট্রিবিউন।

More News

Warning: file_get_contents(http://www.sandwipnews24.com/temp/.php): failed to open stream: HTTP request failed! HTTP/1.1 404 Not Found in /home/sandwipnews/public_html/m/news_details.php on line 77

Warning: Invalid argument supplied for foreach() in /home/sandwipnews/public_html/m/news_details.php on line 79