২৮ দিনে জমির নামজারি , সর্বোচ্চ ৫৩ দিনে নক্সা অনুমোদন, ভবন নির্মাণে বীমা বাধ্যতামুলক

২৮ দিনে জমির নামজারি , সর্বোচ্চ ৫৩ দিনে নক্সা অনুমোদন, ভবন নির্মাণে বীমা বাধ্যতামুলক

সহজীকরণ হচ্ছে ভূমির নামজারির পদ্ধতি। সেবার সময়ও কমিয়ে আনা হচ্ছে। এতে গ্রাহক হয়রানিও কমবে। পঁয়তাল্লিশ দিনের পরিবর্তে আটাশ দিনের মধ্যে নামজারি সম্পন্ন করবেন সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড)। দলিল নিবন্ধনের সঙ্গে জমির নামজারি ফি জমা দেয়া হবে। একই সঙ্গে দলিল গ্রহীতা দলিলের তিনটি কপি সাবরেজিস্ট্রি অফিসে জমা দেবেন। তিন কপি দলিলের এক কপি থাকবে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে। আরেক কপি পাবেন দলিল গ্রহীতা। অপর কপিটি যাবে এসিল্যান্ডের কাছে। এসিল্যান্ডের কাছে পাঠানো কপির সঙ্গে ভূমি রেজিস্ট্রেশনের সময় নামজারি ফি বাবদ যে টাকা জমা দেয়া হয়েছে তার রশিদ জুড়ে দেয়া হবে। একই সঙ্গে ল্যান্ড ট্রান্সফার নোটিস (এলটি) জেলা প্রশাসকরা এসিল্যান্ডের কাছ থেকে সংগ্রহ করে তা প্রতিমাসে প্রতিবেদন আকারে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। মাঠ পর্যায়ে সেবা সহজীকরণের জন্য এই ব্যবস্থা নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। তবে নামজারি ফি আগের মতোই বহাল থাকবে।


সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত ভূমি সচিব মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত ভূমি সচিব মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারি বলেন, জনকল্যাণের জন্যই আমরা নামজারির সময়সীমা কমিয়েছি। এখন আর হয়রানির সুযোগ থাকবে না। নামজারি ফি সারা দেশের জন্য অভিন্ন রাখা বিষয়ে সচিব বলেন, আমরা কল্যাণ রাষ্ট্রের নাগরিক। সব ক্ষেত্রে সরকার জনগণের কাছ থেকে বেশি পয়সা নিতে হবে বিষয়টি এমন নয়। জমির শ্রেণী পরিবর্তনের বিষয়ে সচিব বলেন, আঞ্চলিক নাম বাদ দিয়ে প্রমিত বাংলায় জমির শ্রেণীর নাম করণ করা হবে।


সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নামজারি ভূমি ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এসিল্যান্ড, কানুনগো, তহশিলদার, নাজির এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন নামজারি ফি কম থাকলেও ২০১০ সালে সাবেক ভূমি সচিব আতাহারুল ইসলাম ৫৪০ টাকা নির্ধারণ করেন। পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে করা হয় ১ হাজার ১শ’ ৫০ টাকা। বর্তমানে এটাই বহাল রয়েছে। সঙ্গে বিশ টাকার কোর্ট ফি’ও জমা দিতে হয়। নামজারির আবেদন করতে হয় এসিল্যান্ডের দফতরে। সঙ্গে দলিলের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং ভূমি মালিক কিংবা মালিকগণের ছবি জমা দিতে হয়। সহকারী কমিশনারের দফতরে আবেদনের কপিটি যাছাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট তহশিল অফিসে। তহশিল অফিসে জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করার সময় ভূমি মালিককে দলিলের মূল কপিসহ নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত থাকতে হয়। তহশিলদার জমির মালিকাসহ যাবতীয় বিষয় যাছাই-বাছাই করে করে এসিল্যান্ডকে নির্ধারিত ফরম ও ছকে লিখিত নামজারি প্রস্তাব পাঠান।


পরবর্তীতে আবেদনটি নামজারি প্রস্তাব আকারে এসিল্যান্ড অফিসে পাঠানো হয় এবং কানুনগোর মাধ্যমে এসিল্যান্ডের কাছে নামজারির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। এসিল্যান্ড অনুমোদনের সময়ও ভূমি মালিককে দলিলের মূল কপিসহ এসিল্যান্ড অফিসে উপস্থিত থাকতে হয়। এসিল্যান্ড নামজারির প্রস্তাবটি অনুমোদন করার পর নামজারি প্রস্তাবের শিটটি ফের তহশিল অফিসে পাঠানো হয়। ওই সময় ভূমি মালিককে নামজারি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংক্রান্ত নামজারি প্রস্তাবের মূল শিটটি দেয়া হয়। ওই নামজারি প্রস্তাবের শিটে জমির মালিকানা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাদি থাকে এবং ভূমি মালিক ওই শিটটি সংরক্ষণ করবেন। ওই শিটের একটি ফটোকপি নিয়ে ফের ভূমি মালিককে যেতে হয় তহশিল অফিসে তখন তহশিলদার এসিল্যান্ডের অনুমোদিত নামজারি প্রস্তারে শিটের ফটোকপি গ্রহণ করেন এবং অনুমোদিত নামজারি প্রস্তাবের শিটের ভিত্তিতে খতিয়ান খোলেন। খতিয়ানে যার কাছ থেকে জমিটি কেনা হলো, যতটুকু কেনা হলো তা বর্তমান মালিকের নামে খারিজ করা হয়। একই সঙ্গে বর্তমান মালিক ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে নিজের নামে দাখিলা সংগ্রহ করেন। এর পর ওই খতিয়ানের কপিটি নিয়ে ফের আসতে হয় এসিল্যান্ড অফিসে। নির্ধারিত ফরমপূরণ করে ১ হাজার ১শ’ ৫০ টাকা নামজারি ফি জমা নেন নাজির। ফি জমা দেয়ার সময় খতিয়ানের কপি নাজিরের কাছে জমা দিতে হয়। ২/৩ দিন পর ফের ভূমি মালিককে গিয়ে খতিয়ানের মূলকপি নাজিরের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে হয়। নামজারির এই বিশাল প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপেই বিশেষ সুবিধা দিতে হয় ভূমি মালিককে। বর্তমানে রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনের সময় দুই কপি দলিল জমা দেয়ার নিয়ম। এক কপি সাবরেজিস্ট্রার অনুমোদন করে রেকর্ড রুমে সংরক্ষণের জন্য পাঠাবেন। অপর কপি নতুন করে জমির যিনি মালিক হবেন তাকে অনুমোদন করে দেয়া হবে।


নতুন উদ্যোগ ॥ নতুন করে রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনের সময় দুই কপি দলিল স্থলে তিন কপি দলিল জমা দিতে হবে। এক কপি সাবরেজিস্ট্রার অনুমোদন করে রেকর্ড রুমে সংরক্ষণের জন্য পাঠাবেন। একটি কপি নতুন করে ভূমির যিনি মালিক হবেন তাকে অনুমোদন করে দেয়া হবে। অপর কপিটি এল্টি নোটিসসহ নামজারি ফি আদায়ের রশিদসমেত এসিল্যান্ডের কাছে নামজারির জন্য পাঠানো হবে। আটাশ দিনের মধ্যে নামজারি সম্পন্ন করে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ভূমিমালিকগণ ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে খতিয়ানের কপি সংগ্রহ করবেন। এতে জনদুর্ভোগ এবং হয়রানি লাগব হবে বলে মনে করছে ভূমি মন্ত্রণালয়। প্রবাসী বাংলাদেশীদের নামজারির আবেদন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। প্রতিমাসে নতুন এই প্রক্রিয়ায় কতগুলো নামজারি কেস নিষ্পত্তি করা হয়েছে সে তথ্য ডিসিরা এসিল্যান্ডের কাছ থেকে সংগ্রহ করবেন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়কে প্রতিবেদন আকারে অবহিত করবেন। এছাড়া ভূমির শ্রেণী সংখ্যা ১৫৩ থেকে নামিয়ে ১০টিতে আনা হবে।


যে সমস্যা রয়েই গেল ॥ ভূমির পরিমাণ যাইহোক, যে স্থানেই হোক নামজারি ফি সারা দেশের জন্য অভিন্ন থেকে যাচ্ছে। চরাঞ্চলের জমির বিঘা মাত্র কয়েক হাজার টাকা। অথচ ঢাকাসহ মহানগরীর জমির কাঠা প্রতি মূল্য কোটি কোটি টাকা। রেজিস্ট্রেশন ফিও অনেক বেশি। কিন্তু নামজারি ফি থাকছে মাত্র ১ হাজার ১৫০ টাকা। এখানে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অঞ্চল বা স্থান বা মহানগরী ও মফস্বল উপজেলা পর্যায়ের কিংবা চরাঞ্চলের জমির নামজারি ফি আলাদা হওয়া একান্তই অপিরহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।




রাজউকের নক্সা পাসের সর্বোচ্চ সময় ৫৩ দিন : এদিকে সেবা সহজীকরণের উদ্যোগে এখন থেকে ষোলোটির পরিবর্তে মাত্র চারটি সংস্থার অনাপত্তির ভিত্তিতে ভবন নির্মাণের নক্সা অনুমোদন দেবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) অন্যান্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সর্বোচ্চ ৫৩ দিনের মধ্যে সেবা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে সব ইমারত নির্মাণে। যারা নিয়মনীতি না মেনে ভবন নির্মাণ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সমন্বয়ে ‘রাজউক-চউক-এর সেবা সহজীকরণ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, আমরা কতক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এসব সিদ্ধান্ত মানুষের সেবার উদ্দেশে, সেবা সহজীকরণের জন্য। মানুষকে দীর্ঘদিনের অনাকাক্সিক্ষত ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে যুগান্তকারী কয়েকটি সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মতো আমাদের যেসব নগর কর্তৃপক্ষ রয়েছে তাদের থেকে ভবন নির্মাণের জন্য নক্সার অনুমোদন নিতে হয়। এতদিন এই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ষোলোটি স্তর পার হতে হতো। স্তরগুলো অতিক্রম করতে গিয়ে মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হতো। এটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছি। বিডা আমাদের এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সহায়তা দিয়েছে।


শ ম রেজাউল করিম বলেন, আমরা দেখেছি গতানুগতিক যে ১৬ স্তর অতিক্রম করতে হতো এর কোন আবশ্যকতা নেই। এগুলো শুধু সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ানো ও নামকাওয়াস্তে একটি পদ্ধতির ভেতর ঢুকিয়ে দেয়া ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে এই ১৬ স্তরের পরিবর্তে মাত্র চার স্তর প্রয়োজন হবে। তাই আমরা বারোটি স্তরকে বাদ দিয়ে দিচ্ছি। এই ১২ স্তরের কোন প্রয়োজন নেই।


যখন কোন সেবাপ্রার্থীকে এই ১২ প্রক্রিয়ায় যেতে হতো তখন অকারণে ও অনাহূত সীমাহীন ভোগান্তি হতো তার। সেই ভোগান্তি দূর করে সহজ করার মধ্য দিয়ে জনসেবা মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া।


এখন ভবন নির্মাণের নক্সা অনুমোদনের জন্য সিটি কর্পোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুত বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ, গ্যাস সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ, ওয়াসা, পুলিশ, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বারোটি সংস্থার অনুমোদন আর প্রয়োজন হবে না, জানান গণপূর্তমন্ত্রী।


এখন ভবনের নক্সা অনুমোদনের জন্য চারটি স্তর তুলে ধরে গৃহায়ণমন্ত্রী বলেন, ভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র নিতে হবে। ভবনের উচ্চতা বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি নিতে হবে। তবে এটাকেও আমরা সহজ করে দিয়েছি। যে এলাকায় বিমান চলাচলের পথ নয় সেই এলাকা নির্ণয় করে এত সহজ করে দেব যে কর্তৃপক্ষ ম্যাপটাকে ফলো করে প্ল্যান দিতে পারবে। এই অঞ্চল বিমান চলাচলের জায়গা নয়, এ বিষয়ে একটা গেজেট নোটিফিকেশন লাগবে। এটি আমরা দু’একদিনের মধ্যে সম্পন্ন করব। যেখানে বিমান চলাচল নেই সেখানে অনাপত্তিপত্র আনতে যেতে হবে না।


তিনি বলেন বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিশেষ বিশেষ এলাকা বা স্পর্শকাতর এলাকার পাশে কোন ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর অনাপত্তি লাগবে। আর দশতলা ভবনের উর্ধে হলে ফায়ার সার্ভিসের অনাপত্তি লাগবে। এছাড়া কোন প্রয়োজন নেই। যারা নিয়মনীতি না মেনে ভবন নির্মাণ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে, জানান মন্ত্রী।


মন্ত্রী বলেন, একটা প্ল্যান পাসের জন্য সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আগে সর্বোচ্চ সময় লাগত ১৫০ দিন। এই ১৫০ দিন থেকে আমরা কমিয়ে ৫৩ দিনে নিয়ে আসছি। এক্ষেত্রে ব্যয় কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ঠিকমতো হলে ৭ দিনের মধ্যে রেজাল্ট পাওয়ার সুযোগ থাকছে। তবে সর্বোচ্চ সীমা ৫৩ দিন।


নক্সা অনুমোদন প্রক্রিয়া হবে অনলাইনে ॥ নক্সা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অটোমেশন পদ্ধতি কার্যকর করা হচ্ছে জানিয়ে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, সেক্ষেত্রে যা যা রিকয়্যারমেন্ট তা দিয়েই প্রত্যেকে আবেদন করবেন। এই চারটি রিকয়্যারমেন্ট যদি তিনি ফুলফিল না করেন তবে তার আবেদনটাই অনলাইনে একসেপ্ট হবে না।


তিনি বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার লোক রাজউক, চউক গিয়ে ভর করেন। প্রতিটি রুমে ঢুকে যান। কর্মকর্তারা কাজও করতে পারেন না। কারণ, এত লোক এলে তার কথা শুনতে সমস্যা হয়। অটোমেশন পদ্ধতি চালু করার পর দেখা যাবে কাউকে সরাসরি রাজউকে বা চউকে আসার দরকার নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বিঘেœ কাজ করবেন। এতে সময় বাঁচবে।


মন্ত্রী বলেন, আমাদের দফতর থেকে ম্যাসেজ চলে যাবে আপনার প্ল্যান অনুমোদন হয়েছে কিনা। গ্রাহক তা সংগ্রহ বা ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। একেবারে সহজীকরণ পদ্ধতির জায়গায় নিয়ে আসছি। এতে মানুষের ভোগান্তি ও ব্যয় কমবে। তিনি বলেন, নতুন পদ্ধতি চালু হলে কাউকে দালালের কাছে যেতে হবে না। অন্যায় পথে কাউকে কনভিন্স করার চেষ্টা করা লাগবে না। আগামী ১ মে থেকে আর কোন ম্যানুয়ালি নক্সা অনুমোদন বা অন্য কোন আবেদনের সুযোগ থাকবে না।


ভবন নির্মাণে বীমা বাধ্যতামূলক : তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে অনাকাক্সিক্ষত অনেক ঘটনা ঘটে। ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যর্থতা, ডেভেলপারদের ব্যর্থতা, অতিলোভী কিছু লোকের ব্যর্থতা, আমরা যারা নিজেরা দালান করতে চাই তাদের ব্যর্থতা। সবকিছু মিলে অকালে শ্রমিকদের প্রাণ ঝরে যায়, ভবনে বসবাসকারী সুন্দর পরিবারটি ধ্বংস হয়ে যায়। এজন্য প্রতিকারের ব্যবস্থা আইনে ওই রকম নেই।


আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সকল ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক। এটা হলে যিনি ভবন নির্মাণের দায়িত্ব নিচ্ছেন তিনিও যেনতেনভাবে করতে চাইবেন না। কারণ তিনি ভাববেন, এই ভবন ধসে গেলে আমার এত টাকার ইন্স্যুরেন্স পে করতে হবে। অথবা কেউ যদি অনাকাক্সিক্ষত অবস্থার শিকার হন, তার পরিবারও একটা নিশ্চয়তা পাবে। এই ইন্স্যুরেন্সের ক্ষতিপূরণ তাকে দিতে হবে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে ইন্স্যুরেন্স পদ্ধতি আছে। আমরা সেটি ইম্পোজ করলাম।


প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করতে পারলে আন্তর্জাতিকভাবে ‘এ্যাসেস’ করার যে স্কোরিং সেখানে বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে যাবে। গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, সকল প্রতিষ্ঠানকে এই নিয়ম ও বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। যারা বিধিবিধান অনুসরণ করবেন না তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। এর জন্য আইনগত ব্যবস্থা রয়েছে, প্রশাসনিক ব্যবস্থাও আছে।


এ সময় বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব শহীদ উল্লাহ খন্দকারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। জনকণ্ঠ। 

More News

Warning: file_get_contents(http://www.sandwipnews24.com/temp/.php): failed to open stream: HTTP request failed! HTTP/1.1 404 Not Found in /home/sandwipnews/public_html/m/news_details.php on line 77

Warning: Invalid argument supplied for foreach() in /home/sandwipnews/public_html/m/news_details.php on line 79