স্বদেশ রায় :: ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ সর্বোচ্চ উদার জাতীয়তাবাদ নয়। আর ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ স্বদেশ রায় :: ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ সর্বোচ্চ উদার জাতীয়তাবাদ নয়। আর ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ

মাটির ভাষার দাবি ও স্বাধীনতার বীজ

মাটির ভাষার দাবি ও স্বাধীনতার বীজ

স্বদেশ রায় :: ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ সর্বোচ্চ উদার জাতীয়তাবাদ নয়। আর ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ অনেক কম উদার। জাতীয়তাবাদ তখনই উদার হয় যে সময়ে সেটা একটা কনসেপ্ট হয়। তখন স্বাভাবিকই তার ধারণ ক্ষমতা অনেক বেশি হয়। সেখানে উদারতা অনেক বেশি। যেমন- আমেরিকান জাতীয়তাবাদ, ভারতীয় জাতীয়তাবাদ। এই দুটি জাতীয়তাবাদ মূলত একটা কনসেপ্ট। যে কারণে ট্রাম্প যখন আমেরিকান জাতীয়তাবাদের ধারণ ক্ষমতার চারিপাশে দেয়াল তুলছেন তখন ওই জাতীয়তাবাদ হাঁসফাঁস করছে। তার দম নিতে কষ্ট হচ্ছে। ঠিক একই অবস্থা এখন ভারতীয় জাতীয়তাবাদের। বিজেপি বা হিন্দু মহাসভা যখনই ভারতীয় জাতীয়তাবাদের চারিপাশে ধর্মের দেয়াল তুলছে তখন ভারতীয় জাতীয়তাবাদের দম ছাড়তে কষ্ট হচ্ছে। আমাদের এই ভূখণ্ডের (তখন এর নাম ছিল পূর্ব বাংলা) মানুষের অবস্থা এর থেকে খারাপ হয়েছিলো পাকিস্তান সৃষ্টির ভেতর দিয়ে। পূর্ববঙ্গের মানুষের সহজাত একটা সহজিয়া জীবন ছিল, যেখানে বাউল, সুফী সহজে জন্ম নিতো, যেখানে ধর্মের আনন্দ ছিল, উৎসব ছিল, আচরণ ছিল তবে কঠিন কোনও বাধন ছিল না। তখনও ভূখণ্ড কোনও জাতি রাষ্ট্র হওয়ার সুযোগ যেমন পায়নি বরং বাংলা হিসাবে ভারতীয় উপমহাদেশের ঐক্যতানে জোড়া ছিল। একদিকে সূক্ষ্ম ঐক্যতান অন্যদিকে নদী মাতৃক দেশের ভৌগলিক কারণে সহজিয়া আচরণ এই নিয়েই হাজার বছর ধরে বেড়ে ওঠা নরগোষ্ঠীকে হঠাৎ করেই পাকিস্তান নামক দেশের অংশ করে তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধার চেষ্টা হয় ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ দিয়ে


পাকিস্তান সৃষ্টির সময় এই ভূখণ্ডের সাধারণ মুসলিম সমাজ একটা উন্মাদনার মধ্যে ছিল। তারা যতটা না একটা ধর্মীয় রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলো তারা থেকে বেশি তারা স্বপ্ন দেখেছিলো এক সঙ্গে দুটো শোষণ থেকে মুক্তি পাবে। এক. ব্রিটিশের শোষণ, দুই. হিন্দু জমিদার জোতদারের শোষণ। তারা মনে করেছিলো ধর্মীয় একতা এখান থেকে তাদেরকে মুক্ত করে অনেক সুন্দর একটা জীবন দেবে। যদিও সেদিন ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ ধর্মের সব নিয়মও মানেনি। ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ বাস্তবে কট্টরও কম ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন হয়, তার পরেও যে কোনও ধর্ম কিন্তু অন্য ধর্মীয় মানুষকে হিংসা করা থেকে বিরত থাকতে বলে। কিন্তু পাকিস্তান আন্দোলনের ভেতর দিয়ে একটা হিংসাও কম বেশি জাগ্রত হয়েছিলো। যদিও সেটা শতভাগ স্পর্শ করেনি ভূখণ্ডের সহজিয়া মানুষকে। তারপরেও দেখা গেলো যখনই ধর্মের নামে দুটো ভাগ হতে গেলো তখনই একটা হিংসা, একটা রক্তপাতের সৃষ্টি হলো। এই হিংসা রক্তপাত ভারত পাকিস্তানের শিক্ষিত তরুণ শ্রেণিকে ধাক্কা দিলো অনেক বেশি। তাদের তরুণ মন এই হিংসা রক্তপাতে ব্যথিত শুধু নয়, নতুন খোঁজার একটা তাগিদ বোধ করলো


উপমহাদেশের যে অংশটি ভারত নামে একটি রাষ্ট্র হলো সেখানকার রাষ্ট্র নায়ক পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু এটা উপলব্ধি করতে পেরে ধর্মের নামে দেশ ভাগ হলেও ধর্মকে রাষ্ট্রের থেকে দূরে রাখার পথ নিলেন। পাকিস্তানে কায়েদে আযম মোহম্মাদ আলী জিন্নাহও সেভাবেই রাষ্ট্র গড়তে নেমে পড়লেন। প্রথম ভাষণেই তিনি পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রে ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানালেন। কিন্তু পূর্ব বাংলার ভৌগলিক পরিবেশে হাজার বছরে যে নরগোষ্ঠী বেড়ে উঠেছে তাদের সহজিয়া চরিত্র সম্পর্কে পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত জিন্নাহ


Warning: file_get_contents(http://www.sandwipnews24.com/temp/.php): failed to open stream: HTTP request failed! HTTP/1.1 404 Not Found in /home/sandwipnews/public_html/m/news_details.php on line 77

Warning: Invalid argument supplied for foreach() in /home/sandwipnews/public_html/m/news_details.php on line 79