উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ : দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে ১০ মেগা প্রকল্প

উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ : দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে ১০ মেগা প্রকল্প

এক শ’ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণ কাজও এগিয়ে চলেছে এসব অঞ্চল ঘিরে: ২০৩০ সালের মধ্যে রীতিমতো শিল্প বিপ্লব ঘটবে; কর্মসংস্থান হবে কোটি মানুষের


 


জনকণ্ঠ ::  উন্নয়ন। সাধারণভাবে ব্যক্তির জন্য উন্নয়ন বলতে বাড়তি আয়-উপার্জন বোঝায়। দেশের ক্ষেত্রেও এর অর্থ প্রায় সমরূপ। দেশের উন্নয়ন হচ্ছে বললে বোঝানো হয় দেশের লোকজনের সামষ্টিক আয় বাড়ছে। সামষ্টিক আয়কে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ দিলে জনগণের মাথাপিছু আয়ের হিসাব পাওয়া যায়। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় মাথাপিছু আয় ১৯০৯ ডলার। আগের অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৭৫১ ডলার। এর ওপর ভিত্তি করে বলা হয়, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। এই মুহূর্তে দেশে পদ্মা বহুমুখী সেতুসহ ১০ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। এর বাইরে চলছে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণকাজ। সব কিছু ঠিক থাকলে সরকারের এই মেয়াদেই দেশের মানুষ এসব প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করবে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখার ভিত্তি রচনার ক্ষেত্রে এই দশ মেগা প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। অন্যদিকে দেশের এই উন্নয়ন কতটা টেকসই হচ্ছে, কি ধরনের সুফল মিলবে সেই প্রশ্ন তুলছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, উন্নয়নের সঙ্গে দেশের অগ্রযাত্রাও জড়িত। সত্যিকারের উন্নয়ন হলেও দেশের অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না।


গত দুই দশকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নের যে কোন সূচকের বিচারে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ ১৯৯০-এর পর সার্বিকভাবে প্রবৃদ্ধিতে উন্নয়নশীল দেশের গড় হারের তুলনায় অনেক এগিয়েছে। দারিদ্র্যের হার অর্ধেক হয়ে গেছে। মেয়েদের অর্থনৈতিক কর্মকা-ে অবদানের হার দ্রুত বেড়েছে, জনসংখ্যা, গড় আয়ু, শিশুমৃত্যুর হার, মেয়েদের স্কুলে পড়ার হার, সক্ষম দম্পতিদের জন্মনিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গ্রহণের হার ইত্যাদি সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ সমপর্যায়ের উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশ, এমনকি প্রতিবেশী ভারতকে পেছনে ফেলতে সমর্থ হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের সাফল্য যে বেশি, নোবেলজয়ী বাঙালী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অমর্ত্য সেন তা বারবার লিখেছেন। তিনি তার সর্বশেষ প্রকাশিত অ্যান আনসারটেইন গ্লোরি: ইন্ডিয়া এ্যান্ড ইটস কন্ট্রাডিকশনস বইয়ে বাংলাদেশ নিয়ে আলাদা একটি অধ্যায়ও রেখেছেন। ক্রয় ক্ষমতার বিবেচনায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রক্ষেপণে বলা হয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৬ শতাংশ। আর তাতে বাংলাদেশ ও কানাডা সমান অবদান রাখবে- যা হবে ০.৯ শতাংশ। ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের এই অবদান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইএমএফ।


বিশ্বব্যাংকের তৈরি করা তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এখন গড় মাথাপিছু আয় হচ্ছে ৫২৮ ডলার। আর দক্ষিণ এশিয়ার গড় আয় এক হাজার ১৭৬ ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশের মাথা পিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯০৯ ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৪০ টাকা। আগের অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৭৫১ ডলার। সাফল্য আছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারেও। বাংলাদেশে এখন এই হার মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ আর দক্ষিণ এশিয়ার গড় ১ দশমিক ৪ শতাংশ। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এই গড় অনেক বেশি, ২ দশমিক ১ শতাংশ। স্বাধীনতার ঠিক পরেই দেশের মানুষ গড়ে বেঁচে থাকত ৪৬ বছর, এখন সেই গড় ৬৯ বছর। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার গড় হচ্ছে ৬৫ বছর। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এক হাজার নবজাতকের মধ্যে মারা যায় ৭০ জন, দক্ষিণ এশিয়ায় ৫২, আর বাংলাদেশে ৩৫ জন। মেয়েরা সবচেয়ে বেশি স্কুলে যায় এই বাংলাদেশেই। বাংলাদেশ কেবল পিছিয়ে আছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের অপুষ্টি দূর করার ক্ষেত্রে। বাংলাদেশের এই অর্জন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। জনকণ্ঠকে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধু যে মুসলিমপ্রধান দেশ, তা নয়, এটি উত্তর আফ্রিকা থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত এমন একটি অঞ্চলের অংশ, যেখানে রয়েছে মেয়েদের প্রতি বৈষম্যমূলক পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। এ কারণে বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়নের এই অগ্রগতিকে একটি ‘উন্নয়ন বিস্ময়’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। এর পেছনে কাজ করেছে জনগণের উন্নয়ন-সচেতনতা, গোত্র-বর্ণ ভেদাভেদহীন সমাজ এবং সরকারী-বেসরকারী সংস্থাগুলোর নানা কার্যকর কর্মসূচী ও সামাজিক উদ্যোগ।


১৯৯০ এর দশকেও বাংলাদেশে ৫৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত। এখন করছে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ বলছে, ৬ শতাংশ হারে অব্যাহত প্রবৃদ্ধি অর্জন গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে। মূলত ৮০ লাখ প্রবাসীর পাঠানো আয়, তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক এবং কৃষির সবুজ বিপ্লব বা এক জমিতে দুই ফসল দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে। আবার সরকারও পিছিয়ে পড়া ও অতিদরিদ্রদের জন্য সামাজিক কর্মসূচী খাতে অব্যাহতভাবে বাজেট বাড়িয়েছে। দেশের ৪০ শতাংশ অতি দরিদ্র মানুষ এখন এই কর্মসূচীর আওতায়। এ খাতে সরকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অংশ হিসেবে যে অর্থ ব্যয় করছে, তা বড় অর্থনীতির দেশ ভারতের সমপর্যায়ের। নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা এর চেয়ে অনেক কম অর্থ ব্যয় করে। সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) ঠিক করা হয়েছিল ১৯৯০ সালে। বাংলাদেশও ওই সময় থেকেই ক্রমান্বয়ে এগিয়েছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচীর (ইউএনডিপি) তৈরি করা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আটটি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে বাংলাদেশ এরই মধ্যে অনেক সঠিক পথে আছে, কিছু ক্ষেত্রে লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। বয়স্ক শিক্ষার হার বাড়ানোর মতো কিছু বিষয়ে পিছিয়ে আছে। এমডিজি পূরণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে একটি উদাহরণ।


সামাজিক উন্নয়নের বাইরে এবার অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলা যাক। এই মুহূর্তে দেশে পদ্মা বহুমুখী সেতুসহ ১০ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। প্রকল্পগুলো হচ্ছে- পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প, ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্প, দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প, কয়লাভিত্তিক রামপাল থার্মাল বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্প এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প। এই দশ মেগা প্রকল্পের বাইরেও ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে মোট ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছে। সরকারের প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো (ইপিজেড) তৈরি হলে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রফতানি আয় সম্ভব হবে। একইসঙ্গে এই ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশের এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তবে দেশের এই উন্নয়ন প্রকল্প কতটা টেকসই হচ্ছে, কি ধরনের সুফল মিলবে সেই প্রশ্ন তুলছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ। সুষ্ঠুভাবে প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরী। এগুলো নিশ্চিত করাটাই সরকারের জন্য বড় কাজ। যদিও সঠিক অর্থায়ন ও সময়মতো প্রকল্পের কাজ শেষ হয় তবে অবশ্যই এর সুফল পাবে দেশের জনগণ। তিনি বলেন, উন্নয়নের সঙ্গে দেশের অগ্রযাত্রাও জড়িত। সত্যিকারের উন্নয়ন হলেও দেশের অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না। অর্থনীতিবিদ ড. জায়েদ বখত জনকণ্ঠকে বলেন, আর্থসামাজিক উন্নয়ন গতিশীল করতে ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলো সময়মতো বাস্তবায়ন জরুরী। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের জন্য হবে ঐতিহাসিক। কারণ, এ সময়ে ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।


স্বপ্নের পদ্মার সেতু ও রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে


শুরুতেই পদ্মা বহুমুখী সেতুর কথা বলা যাক। সেতু প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ দূরত্ব ও সময় কমবে। ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে মাওয়া থেকে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেললাইন জাজিরা, শিবচর, ভাঙ্গা জংশন হয়ে ভাঙ্গা স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নড়াইল ও যশোর জেলা সংযুক্ত হবে। অর্থাৎ দেশের (মোট দেশজ উৎপাদন) জিডিপি আনুমানিক এক শতাংশ বাড়বে। মোট ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে ১৯তম স্প্যান বসানো হয়েছে। এর মাধ্যমে সেতুর ২ হাজার ৮৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সেতুর মাওয়া প্রান্তের ১৮ ও ১৯ নম্বর খুঁটিতে ‘৩এফ’ নম্বরের ২০তম স্প্যানটি বসানো হবে আগামী সোমবার। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসেই শুধু চারটি স্প্যান বসানোর কথা রয়েছে। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর ৪২টি খুঁটিতে মোট ৪১টি স্প্যান বসবে। দ্বিতল সেতুটি কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে। দ্বিতল এই সেতুর উপরিভাগ দিয়ে চলবে গাড়ি, আর নিচ দিয়ে চলাচল করবে ট্রেন।


ঢাকায় ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী টানবে মেট্রোরেল


স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছর ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মেট্রোরেল চালু হওয়ার কথা। এ লক্ষ্যে প্রকল্পটির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আগারগাঁও থেকে মিরপুর হয়ে উত্তরার দিকে এখন দৃশ্যমান ছাইরঙের খুঁটির ওপর মেট্রোরেল রুট ভায়াডাক্ট। এই ভায়াডাক্টের উপরেই বসবে রেললাইন বা রেলট্র্যাক। এরই মধ্যে মতিঝিল-উত্তরা রুটের জন্য ৮০ ভাগ রেলট্র্যাক এসে গেছে। ইতোমধ্যে মেট্রোরেলে ট্র্যাক বসানো শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে বসানো হবে ইলেকট্রিক লাইনও। মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, ‘উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৬০ ভাগের মতো। আর পুরো প্রকল্পের অগ্রগতি ২৮ ভাগ। আগামী বছরে জুনে যখন পূর্ণাঙ্গ মেট্রো ট্রেন সেট আসবে তখনই ট্রায়াল রান শুরু হবে। তবে যাত্রী পরিবহন করা হবে উদ্বোধনের পর। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ঢাকাবাসী আগামী বছরের জুনের পর উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে ট্রায়াল রানের মেট্রো ট্রেন চলতে দেখবে।’ এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, ‘আমাদের এখানে পৃথিবীর সর্বশেষ প্রযুক্তির কোচগুলো আনা হচ্ছে। যখন এগুলো চলতে শুরু করবে তখন তা অন্যান্য দেশের চেয়ে উন্নতর ও আধুনিক হবে। আর দেশের প্রথম মেট্রোরেল (উত্তরা-মতিঝিল) হবে সম্পূর্ণ এলিভেটেড ও বিদ্যুতচালিত। আগামী বছরের জুনে দেশে মেট্রোরেলের প্রথম পরিপূর্ণ ট্রেন সেট আসবে। এভাবে ওই সময় থেকে পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে ২৪টি ট্রেন সেট আসবে। একেকটি সেটে ৬টি করে কোচ থাকবে। এই রেলের ট্রেনগুলো উভয়দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী টানবে। মেট্রোরেলে প্রতিটি স্টেশন হবে তিনতলা। সিঁড়ি বেয়ে প্রথমে উঠতে হবে দ্বিতীয় তলায়। সেখানে টিকেট কাউন্টার ও অন্যান্য সুবিধাদি থাকবে। আর ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম থাকবে তৃতীয় তলায়। ট্রেনে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে ৪০ মিনিটের কম। মেট্রোরেলে ‘প্রিপেইড কার্ড’ দিয়ে ট্রেনের ভাড়া পরিশোধ করতে পারবেন যাত্রীরা। আবার টিকেট কেটেও থাকবে ভ্রমণের সুযোগ।


কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমার চলে যাবে ট্রেন


চট্টগ্রামের দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন প্রকল্পটি হলে কক্সবাজারের সঙ্গে রেলযোগাযোগ বাড়বে। ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে এই প্রকল্প। এডিবির আর্থিক সহায়তায় চট্টগ্রামের দোহাজারী হয়ে কক্সবাজার এবং ঘুমধুম রেলপথ স্থাপনের কাজ চলছে। ট্রান্স এশিয়ান রেলের অন্তর্ভুক্ত এই সংযোগটি বাংলাদেশ হয়ে মিয়ানমার চলে যাবে। দোহাজারী-ঘুমধুম রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেট ট্র্যাক নির্মাণ হবে। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ দশমিক ৮৩১ কিলোমিটার এবং রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮ দশমিক ৭২৫ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ হবে। দুটি প্রকল্পে মোট এক হাজার ৭৪১ একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ২২ দশমিক ৩০ শতাংশ; ভৌত অগ্রগতি ৩০ শতাংশ।’ তিনি বলেন, ‘এ রেললাইনের রাস্তা ও ব্রিজ নির্মাণের কাজসহ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ অগ্রাধিকারভিত্তিতে করা হচ্ছে। কক্সবাজার সদরেই ঝিনুক আকৃতির রেলওয়ে স্টেশন হচ্ছে।’


৬০ বছর ধরে বিদ্যুত উৎপাদন করবে রূপপুর


বাংলাদেশের রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র। ২০১৭ সালের ৩০ নবেম্বর বাংলাদেশে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে দেশটির প্রথম পারমাণবিক কেন্দ্রের মূল নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকার মনে করে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প বিদ্যুত উৎপাদনের বড় উৎস হিসেবে কাজ করবে। এ প্রকল্পে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। ২০১০ সালের ২১ মে এ বিদ্যুতকেন্দ্র বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হয়। বাংলাদেশ আর রুশ ফেডারেশনের মধ্যে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার বিষয়ক একটি চুক্তি মস্কোতে স্বাক্ষরিত হয়। পরে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর পাবনার রূপপুরে দুই হাজার চারশ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ করতে রাশিয়ার এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করে সরকার। বিদ্যুতকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালের অক্টোবরে উৎপাদনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুতকেন্দ্রটি ৬০ বছর ধরে বিদ্যুত উৎপাদন করবে। জানা গেছে, বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নিয়ে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলো মাথায় রেখেই রাশিয়া তার সর্বশেষ মডেলের আধুনিকায়ন করে। আর তাই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই বাস্তবায়িত হচ্ছে রূপপুর প্রকল্প।


আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে নির্মাণ হচ্ছে মাতারবাড়ী বিদ্যুতকেন্দ্র


কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রকল্প হতে আসবে বিপুল পরিমাণ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত। জাইকার আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছে। কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ হবে আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে। প্রকল্প এলাকায় সড়ক নির্মাণ, টাউনশিপ গড়ে তোলাসহ আনুষঙ্গিক কাজের প্রায় ২৫ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মাতারবাড়ী ইউনিয়নে ১ হাজার ৪১৪ একর জমির ওপর এই বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাপান সরকারের কাছ থেকে ঋণ সহায়তা হিসেবে পাওয়া গেছে ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি তিন লাখ টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে সাত হাজার ৪৫ কোটি ৪২ লাখ টাকার জোগান দেয়া হচ্ছে। ২০২৩ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে এই কেন্দ্রের বিদ্যুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার আশা করছে সরকার। সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে বাস্তবায়নাধীন যে ১০টি প্রকল্প রয়েছে তার মধ্যে খরচের দিক দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের পরই রয়েছে মাতারবাড়ীর প্রকল্পটি।


১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আসবে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে


গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতাসম্পন্ন ল্যান্ড বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। বর্তমানে এখান থেকে দিনে সর্বোচ্চ ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া, নির্মাণাধীন সামিটের অপর টার্মিনাল থেকে শীঘ্রই আরও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে। এ জন্য মূল ব্যয় ১ হাজার ৯৬২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ধরে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ থেকে ৭৩৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা সহায়তা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শেষ করছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। জিটিসিএল বলছে, বিদ্যমান ২৪ ইঞ্চি ব্যাসের বাখরাবাদ-ফেনী-চট্টগ্রাম পাইপলাইনটি প্রায় ৩০ বছরের পুরনো এবং এ লাইনটির সক্ষমতা কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা রক্ষায় নতুন এ লাইনটি স্থাপনের বিকল্প নেই। প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, চারটি নদীতে (ফেনী, মহুরী, কালিদাস ও ডাকাতিয়া) ১ হাজার ৩০০ মিটার রিভার ক্রসিংসহ ৩৬ ইঞ্চি ব্যাসের ১৮১ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ। স্কাডা সিস্টেম, দুটি টাউন বর্ডারিং স্টেশন ও একটি মিটারিং স্টেশন স্থাপন করা হবে।


১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন হবে রামপালে


বহু বাধা পেরিয়ে রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ অর্ধেকেরও বেশি শেষ হয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শেষ করতে রাতদিন কাজ চলছে। ভারতের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় রামপালে বিদ্যুতকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। শুরুর বছরগুলোতে পরিবেশবাদী এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপে বিদ্যুতকেন্দ্রটির কাজ শুরুই করা যাচ্ছিল না। তবে এখন অনেকটা নীরবে দ্রুত কাজ করা হচ্ছে রামপাল কেন্দ্রের। বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি (এনটিপিসি) বিদ্যুতকেন্দ্রটির মালিকানায় রয়েছে। বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণে ঋণ দিচ্ছে ভারতের এক্সিম ব্যাংক। জানা গেছে, সর্বাধুনিক প্রযুক্তির হওয়ায় বিদ্যুতকেন্দ্রের ৯৯ দশমিক ৯ ভাগ ছাই (কয়লা পোড়ানোর পর অব্যহৃত অংশ) ধরা হবে। যা বাতাসে ছড়াতে পারবে না। এই ছাই স্থানীয় সিমেন্ট কারখানা এবং সিরামিক কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে।


পায়রা বন্দর ঘিরে পাল্টে যাবে দক্ষিণাঞ্চল


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ১৯ নবেম্বর পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম ১৯টি কম্পোনেন্টে বিভাজন করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট সীমিত পরিসরে পায়রা বন্দরের নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য খালাসের মধ্য দিয়ে অপারেশনাল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ প্রকল্পটি সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। গত অক্টোবরে পায়রা বন্দরে লাইটার জাহাজ থেকে জেটিতে পণ্য ওঠানামার কার্যক্রম এবং সার্ভিস জেটির উদ্বোধন করা হয়েছে। বন্দর এলাকায় কয়লা টার্মিনাল, ফার্স্ট টার্মিনাল প্রকল্প, মাল্টিপারপাস টার্মিনালের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। দেশে বর্তমানে যে তিনটি বন্দরের প্রকল্প আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প হলো পায়রা। ব্যয়বহুল হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, এ বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়ায় যাতে কোন সমস্যা না হয়, সে জন্য বেলজিয়ামভিত্তিক খনন কোম্পানি জান ডি নালের মাধ্যমে রাবনাবাদ চ্যানেলে খনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গত জানুয়ারিতে ড্রেজিং কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী সমীক্ষার জন্য ১৪ মাস ও খননের জন্য ১৪ মাস সময় লাগবে। এরপর ছয় মাস প্রাথমিক রক্ষণাবেক্ষণ খনন চলবে ও পরবর্তী সময়ে ৯ বছর ২ মাস রক্ষণাবেক্ষণ খনন করা হবে। এতে ক্যাপিটাল ও রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিংয়ে মোট ব্যয় হবে ৮৬ কোটি ৪৩ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৩ ইউরো বা আনুমানিক ৮ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জনকণ্ঠকে বলেন, বন্দরের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় পণ্য আমদানি-রফতানির মাধ্যমে পটুয়াখালী, বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের দ্রুত প্রসার ঘটবে।


মাতারবাড়ীতেই হচ্ছে গভীর সমুদ্রবন্দর


অবশেষে মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দরের মূল অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে। ১৮ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে সমুদ্রবন্দরের জন্য বড় দুটি জেটি নির্মাণকাজ শুরুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দরের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এ বন্দর চালু হবে বলে আশা করছে সরকার। কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ধলঘাট এলাকায় মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়নে ১৩ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা ঋণ দেবে জাপানভিত্তিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা। বাকি ২ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ও ২ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা অন্যান্য সংস্থা থেকে সংস্থান করা হচ্ছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এ সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। শীঘ্রই প্রস্তাবের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ‘মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের কার্গোহ্যান্ডলিং ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের চাহিদা মেটানো এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দ্রুত বন্দর সেবা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখবে। এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট শাখার যুগ্মপ্রধান মতিউর রহমান বলেন, এই প্রস্তাব নিয়ে যাচাই-বাছাই চলছে। শীঘ্রই পিইসি সভা আহ্বান করা হবে। এরপর অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় উপস্থাপনের সুপারিশ করা হবে। অনুমোদন পেলে ২০২৬ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাবে। তবে এর আগে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে ২০১০ সালের আগস্টে ‘গভীর সমুদ্রবন্দর সেল’ নামে একটি সেলের উদ্বোধন করা হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন এ সেলের তথ্যমতে, প্যাসিফিক কনসালটেশন ইন্টারন্যাশনালের সমীক্ষা অনুযায়ী তিন পর্যায়ে এ বন্দর নির্মাণের কাজ শেষ করার কথা। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু করে ২০১৬ সাল নাগাদ প্রথম পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা ছিল। ২০৩৫ সাল নাগাদ দ্বিতীয় পর্যায়ের ও ২০৫৫ সাল নাগাদ চূড়ান্ত পর্যায়ের নির্মাণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়। তবে চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই না হওয়ায় প্রকল্পটি নিয়ে দৃশ্যমান আর কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।


এই ১০ মেগা প্রকল্পের বাইরে দেশে চলছে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণকাজ। এসব অঞ্চলকে ঘিরে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে রীতিমতো শিল্পবিপ্লব ঘটবে দেশে। বদলে যাবে দেশের অর্থনীতির চেহারা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে কোটি মানুষের। এই সম্ভাবনার পুরোটাই হচ্ছে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে। বাড়তি ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি আয় করতে সরকারী ও বেসরকারীভাবে গড়ে উঠছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল। আছে বিদেশীদের জন্য বিশেষ অঞ্চল। বিদেশীদের মধ্যে ভারত, জাপান, চীন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, হংকং, সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশ বিনিয়োগ করবে শত শত বিলিয়ন ডলার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারী খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে উদ্যোক্তাদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, প্রথম পর্বের কাজ শেষ হলে দ্বিতীয় ধাপে নতুন করে আরও ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার উদ্যোগ নিবে সরকার। তিনি আরও বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন পূরণে দেশে ব্যাপক ভিািত্ততে দেশে শিল্পায়ন হওয়া প্রয়োজন। আর এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় দেশে দ্রুত অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দেয়া হচ্ছে।

More News

করোনাভাইরাস ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর করোনাভাইরাস ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে যাতে করোনাভাইরাস আসতে না পারে সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তিনি এ নির্দেশ দেন।


দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব &#........ বিস্তারিত

আগামীকাল শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা, পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ৪৭ হাজার আগামীকাল শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা, পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ৪৭ হাজার

দেশজুড়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামীকাল। এ বছর নয়টি সাধারণ বোর্ডের এসএসসি, মাদ্রাসার দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের এসএসসি ভোকেশনালে মোট পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৯৯ জন। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ........ বিস্তারিত

চাকরি না খুঁজে চাকরি দেয়ার চিন্তা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী চাকরি না খুঁজে চাকরি দেয়ার চিন্তা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

চাকরির জন্য না ছুটে কিভাবে স্বাবলম্বী হয়ে অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বস্ত্রখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের রপ্তানি আয় বৃৃদ্ধির জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্বলি........ বিস্তারিত

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলার কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলার কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান পরিবহণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে ভিআইপি এবং ভিভিআইপিসহ সকল বিমানযাত্রীকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন।


তিনি বলেন, ‘যদি কেউ এক্ষেত্রে ব&#........ বিস্তারিত

উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ : দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে ১০ মেগা প্রকল্প উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ : দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে ১০ মেগা প্রকল্প

এক শ’ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণ কাজও এগিয়ে চলেছে এসব অঞ্চল ঘিরে: ২০৩০ সালের মধ্যে রীতিমতো শিল্প বিপ্লব ঘটবে; কর্মসংস্থান হবে কোটি মানুষের


 


জনকণ্ঠ ::  উন্নয়ন। সাধারণভাবে ব্যক্তির জন্য উন্নয়ন বলতে বাড়তি আয়-উপার্জন বোঝায়। দেশের ক্ষে&........ বিস্তারিত

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে বিমান বাহিনীর নবীন সৈনিকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবান দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে বিমান বাহিনীর নবীন সৈনিকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং শৃঙ্খলাকে সৈনিক জীবনের পাথেয় আখ্যায়িত করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নবীন সৈনিকদের দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ব্রতী হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেক&........ বিস্তারিত