রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমারকে নির্দেশ দিয়েছে আইসিজে

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমারকে নির্দেশ দিয়েছে আইসিজে

রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলায় মিয়ানমারকে অভিযুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে মিয়ানমারকে ওই জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের বিশ্লেষকরা এই আদেশকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন। একে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত নিপীড়ন-নির্যাতনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন তারা। মিয়ানমার এই আদেশ বাস্তবায়ন করবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। তবে আদেশ মানতে অস্বীকৃতি জানালে গাম্বিয়া নেপিদোর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে যেতে পারবে।


জাতিসংঘের এই সর্বোচ্চ আদালতের প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুল কাফি আহমেদ ইউসুফ দ্য হেগের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায়) আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্বর্তী আদেশ ঘোষণা শুরু করেন। তিনি গাম্বিয়ার অভিযোগকে আমলে নিয়ে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান। আইসিজে প্রেসিডেন্ট বলেন, গণহত্যা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য গাম্বিয়ার আবেদনকে যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছে আইসিজে।


আন্তর্জাতিক আইনের বিশ্লেষকরা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলছেন, আন্তর্জাতিক আদালতে করা গাম্বিয়ার মামলা একটি অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত স্বীকার করেছে যে, রোহিঙ্গারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের সুরক্ষা দরকার।


নিউইয়র্কভিত্তিক গ্লোবাল জাস্টিস সেন্টারের সভাপতি অখিলা রাধাকৃষ্ণান ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন,  আইসিজে-র আদেশ মিয়ানমারকে সংকেত দিয়েছে যে তাদের তুচ্ছ অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বাকি অংশকেও বার্তা দিয়েছে যে, এখনও রোহিঙ্গারা ভয়াবহ সব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর বিপরীতে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টস-এর কমিশনার রিড ব্রোডি আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘বাস্তুচ্যুতি-হত্যা আর ধর্ষণের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আজ তাদের ভোগান্তির স্বীকৃতি দিলো।’


আইসিজে-র বিচারক রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা নিশ্চিতে চারটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ঘোষণা করেন। এগুলো হলো—০১. রোহিঙ্গাদের হত্যা, মানসিক ও শারীরিক নিপীড়ন ও ইচ্ছাকৃত আঘাত করা যাবে না। ০২. গণহত্যার আলামত নষ্ট করা যাবে না। ০৩. গণহত্যা কিংবা গণহত্যার প্রচেষ্টা বা ষড়যন্ত্র না করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ। ০৪. মিয়ানমারকে অবশ্যই চার মাসের মধ্যে লিখিত জমা দিতে হবে, যেন তারা সেখানে পরিস্থিতি উন্নয়নে কী ব্যবস্থা নিয়েছে। এরপর প্রতি ৬ মাসের মধ্যে আবার প্রতিবেদন দিতে হবে। 


লিউভেন ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক গ্লেইডার হার্নান্দেজের মতে, আইসিজে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা তাদের দেওয়া আদেশ বাস্তবায়নের তদারকি করতে চায়। তিনি আলজাজিরাকে বলেন, "নজিরবিহীন না হলেও মিয়ানমারকে যে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে; সেটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।’ 


রিড ব্রোডি বলেন, 'আদালতের আদেশ বাস্তবতায় রূপ নেবে কিনা, রোহিঙ্গাদের জীবনমানের বাস্তবিক উন্নতি হবে কিনা, সেটা অনেক দূরের প্রশ্ন। তবে আজকে নিপীড়িত ওই জনগোষ্ঠী সত্যিকারের ন্যায়বিচারের স্বাদ পেলো।' সু চি সেনাবাহিনীর পক্ষে মামলা লড়তে নেদারল্যান্ডসে যাওয়ার পর এমন আদেশ আসায় একে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার প্রতি তীব্র তিরস্কার হিসেবে দেখছেন তিনি।


প্রশ্ন উঠেছে, আইসিজে-র আদেশ মিয়ানমার বাস্তবায়ন করবে কিনা। রিড ব্রোডি বলেছেন, ‘সু চি-কে হেগে পাঠিয়ে মিয়ানমার আইসিজের গুরুত্ব স্বীকার করে নিয়েছে। আদালতের বৈধতা অস্বীকার করা এখন সরকারের পক্ষে সত্যিই কঠিন হয়ে উঠবে।’


আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার যদি আদালতের অন্তবর্তীকালীন আদেশ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে গাম্বিয়া মামলাটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থানান্তর করতে পারবে। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদ সিদ্ধান্ত নেবে, তারা মিয়ানমারকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধ্য করবে কিনা। পরবর্তীতে যদি প্রমাণিত হয়, মিয়ানমার আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করেনি, তাহলে তাদের দায়ী করা যাবে।  


১৭ বিচারকের প্যানেল সর্বসম্মতভাবে এই রায় দিয়েছেন। রিড ব্রোডি বলছেন, এতে রায়টি স্বতন্ত্র মাত্রা পেয়েছে।


প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরদার করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তারা রাখাইনে হত্যাকাণ্ড, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ শুরু করলে জীবন বাঁচাতে নতুন করে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এই নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া। বাংলাট্রিবিউন।

More News

করোনাভাইরাস ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর করোনাভাইরাস ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে যাতে করোনাভাইরাস আসতে না পারে সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তিনি এ নির্দেশ দেন।


দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব &#........ বিস্তারিত

আগামীকাল শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা, পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ৪৭ হাজার আগামীকাল শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা, পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ৪৭ হাজার

দেশজুড়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামীকাল। এ বছর নয়টি সাধারণ বোর্ডের এসএসসি, মাদ্রাসার দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের এসএসসি ভোকেশনালে মোট পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৯৯ জন। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ........ বিস্তারিত

চাকরি না খুঁজে চাকরি দেয়ার চিন্তা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী চাকরি না খুঁজে চাকরি দেয়ার চিন্তা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

চাকরির জন্য না ছুটে কিভাবে স্বাবলম্বী হয়ে অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বস্ত্রখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের রপ্তানি আয় বৃৃদ্ধির জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্বলি........ বিস্তারিত

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলার কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলার কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান পরিবহণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে ভিআইপি এবং ভিভিআইপিসহ সকল বিমানযাত্রীকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন।


তিনি বলেন, ‘যদি কেউ এক্ষেত্রে ব&#........ বিস্তারিত

উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ : দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে ১০ মেগা প্রকল্প উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ : দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে ১০ মেগা প্রকল্প

এক শ’ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্মাণ কাজও এগিয়ে চলেছে এসব অঞ্চল ঘিরে: ২০৩০ সালের মধ্যে রীতিমতো শিল্প বিপ্লব ঘটবে; কর্মসংস্থান হবে কোটি মানুষের


 


জনকণ্ঠ ::  উন্নয়ন। সাধারণভাবে ব্যক্তির জন্য উন্নয়ন বলতে বাড়তি আয়-উপার্জন বোঝায়। দেশের ক্ষে&........ বিস্তারিত

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে বিমান বাহিনীর নবীন সৈনিকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবান দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে বিমান বাহিনীর নবীন সৈনিকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং শৃঙ্খলাকে সৈনিক জীবনের পাথেয় আখ্যায়িত করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নবীন সৈনিকদের দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ব্রতী হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ থেক&........ বিস্তারিত