চলতি অর্থবছরের ১০ মাসেই পোশাক রফতানিতে টার্গেট পূরণ

চলতি অর্থবছরের ১০ মাসেই পোশাক রফতানিতে  টার্গেট পূরণ

পৌনে লাখ কোটি টাকার রফতানি, যুক্তরাষ্ট্রের বাজার শক্তিশালী হচ্ছে, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রফতানি হবে এবার

 

জনকণ্ঠ :: মহামারী করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের পণ্য রফতানি খাত। একের পর এক রেকর্ড হচ্ছে। আর এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে দেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাকখাত। পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ নতুন রেকর্ড করতে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে রফতানি হয়েছে ৪ হাজার ৩৩৪ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য। দেশীয় মুদ্রায় যা পৌনে ৪ লাখ কোটি টাকার সমান। দেশের ইতিহাসে এই পরিমাণ পণ্য রফতানি আগে কখনো হয়নি। সেই হিসাবে এখন পর্যন্ত এটিই সর্বোচ্চ। এখনো চলতি অর্থবছরের দুই মাস বাকি। ফলে অর্থবছর শেষে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পণ্য রফতানি হবে। রফতানিকারকেরা আশা করছেন, বছর শেষে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পণ্য রফতানি পাঁচ হাজার কোটি ডলার বা ৫০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে পৌঁছে যাবে। জিএসপি স্থগিত থাকার পর একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রফতানিতে ভালো করছে বাংলাদেশ। বড় এই বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা বেড়েছে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি, শ্রমমান উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের কারখানা গড়ে তোলা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ভালো মানের পোশাক অপেক্ষাকৃত কম দামে বিক্রি করার কারণে বহির্বিশ্বে পোশাকের বাজার বড় হচ্ছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, পোশাকখাতের রফতানি বাড়লেও আগামীতে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এরমধ্যে এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা নিশ্চিত করার বিয়ষটি অন্যতম। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক উচ্চমূল্যে বিক্রি হলেও বিদেশী ক্রেতারা (বায়ার) সে তুলনায় দেশে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করছে না। ট্রেড ইউনিয়নের নামে কারখানায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করার মতো বিষয় রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে পোশাকখাতের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ফিরে আসায় এখন বিদেশী ক্রেতারা বাংলাদেশমুখী হচ্ছেন।

পোশাকের প্রধান ক্রেতা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীলের মর্যাদায় চলে যাওয়ার পরও বাংলাদেশকে জিএসপি প্লাস সুবিধা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া নতুন নতুন বাজারে বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশের পোশাক। আর এ কারণেই বিশ্বে পোশাকের বাজার বড় হচ্ছে। অন্যদিকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ২০১৯ সালে দেশটির অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প উৎস হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নেয়। তবে করোনার থাবায় রফতানি আবার নিম্নমুখী হতে থাকে। গত বছরের মে মাস থেকে বাজারটিতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি আবার বাড়াতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণেও বিশ্ব বাণিজ্য নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকেও নতুন কৌশল নিয়ে এগিয়ে যেতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, করোনা সঙ্কট মোকাবেলা করে বাংলাদেশের রফতানিখাত অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পোশাক রফতানিতে নতুন নতুন রেকর্র্ড হচ্ছে। এটি দেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে ভাল দিক। তিনি বলেন, পোশাকের পাশাপাশি পণ্য বহুমুখীকরণের উদ্যোগ রয়েছে সরকারের। এ কারণে হোম টেক্সটাইল, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং চামড়া খাতে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রফতানি আয় হচ্ছে। অর্থাৎ এই তিনখাতের প্রতিটিতে ১ বিলিয়ন ডলার বা সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি আয় হচ্ছে। এছাড়া দেশের মৎস্য ওষুধ, জাহাজ, শাকসবজিসহ অন্যান্য খাতের রফতানি প্রবৃদ্ধি ভাল হচ্ছে। রফতানি আয় বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে নগদ সহায়তা দেয়ার কারণে উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসছেন। নতুন নতুন বিনিয়োগকারী বেরিয়ে আসছে। আগামী বাজেটেও রফতানিবান্ধব কর্মসূচী গ্রহণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, মহামারী করোনা সঙ্কটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আগামী তিনবছরের জন্য রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ বিলিয়ন ডলার। যা বর্তমান রফতানি নীতির চেয়ে ২০ বিলিয়ন ডলার বেশি। নতুন রফতানি নীতিতে গার্মেন্টেসের পাশাপাশি পণ্যবহুমুখীকরণ, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সফলভাবে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তীর্ণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও বাণিজ্যে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মতো লক্ষ্যমাত্রায় সর্বোচ্চ জোর দেয়া হয়েছে। পণ্য উৎপাদন ও রফতানি বাড়াতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডিংকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে নতুন রফতানি নীতিতে। এদিকে, সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে বাংলাদেশের রফতানি আয় ছিল ৪ হাজার ৫৩৭ কোটি ডলার। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫১ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পণ্য রফতানি থেকে ৪৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা খাত থেকে ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আয় হবে বলে সরকার আশা করছে। ইপিবির সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস শেষে পণ্য রফতানিতে ২৮ দশমিক ৪১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি। এ সময়ে ২ হাজার ৪৬৯ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যা ছিল এক হাজার ৯২৩ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। মহামারীর কারণে গত বছর বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এদিকে, মহামারী করোনার মধ্যেও পোশাক কারখানা চালু রাখায় ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। এক প্রকার তোপের মুখে পড়েছিল সরকার। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত যে বেশ ফল দিয়েছে, তা এখন মানছেন সমালোচকরাও। কঠিন সময়েও উৎপাদনের চাকা সচল থাকায় আস্থা বেড়েছে বিদেশী ক্রেতাদের। ফলে অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই অর্জিত হয়ে গেছে পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রা। পোশাকের আন্তর্জাতিক বাজারে শীর্ষে চীন। এরপর বাংলাদেশের অবস্থান। কিন্তু গত বছর রফতানিতে ভিয়েতনামের নিচে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এতে করে এক ধরনের চিন্তার ভাঁজ তৈরি হয়েছিল। কারণ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত এ পোশাক। লকডাউনের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে দেশের পোশাক কারখানা খোলা রেখে প্রতিকূল এক পরিস্থিতি বিচক্ষণতার সঙ্গে সামাল দিয়েছে সরকার। এর ফলে সমূহ ধকলের আশঙ্কায় থাকা পোশাক খাত বেশ ভালভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে, বলে জানিয়েছেন পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ নেতারা।

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী অর্থ বছরের প্রথম দশ মাসে পোশাক রফতানি থেকে অর্জিত হয়েছে ৩৫ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এবার বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ১৪ বিলিয়ন। বছরের দুই মাস বাকি থাকতেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ২২ কোটি ডলারের পণ্য বেশি রফতানি হয়েছে। সকল পণ্য মিলিয়ে এবারের রফতানির টার্গেট ছিল ৪৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার, যার প্রায় পুরোটাই অর্জিত হয়ে গেছে। দশ মাসে দেশের সর্বমোট রফতানি আয় ৪৩ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার।

অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে রফতানির এই পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও উজ্জ্বল সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। উদীয়মান অর্থনীতির বাংলাদেশ এখন জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে দক্ষিণ এশিয়ায় সবার ওপরে। বিশেষ করে পোশাক শিল্প ক্রমেই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাজারে স্থান সংহত করে নিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে পোশাক উৎপাদন ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রথম সহ সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম  বলেন, অর্থবছরের দুই মাস বাকি থাকতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে ফেলাটা নিঃসন্দহে উদ্দীপনামূলক। বাকি সময়ে যা অর্জিত হবে তাতে এবার পোশাক রফতানি থেকে মোট আয় দাঁড়াতে পারে ৪২ থেকে ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বেশকিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশের পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্ত অবস্থান করে নেয়ার সুযোগ রয়েছে।

বৈশি^ক মহামারী করোনার মধ্যেও রফতানির প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে বিজিএমইএর এই নেতা বলেন, পোশাক কারখানা খোলা রাখা নিয়ে ব্যক্তি ও বিভিন্ন মাধ্যমে অনেক সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু জীবন ও জীবিকার সমন্বয় বিবেচনায় উৎপাদন চালু রাখার যে সিদ্ধান্ত তা যৌক্তিক ছিল। আজ প্রমাণিত যে, এটা ছিল আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী এক সিদ্ধান্ত। ওই সময়ে পোশাক শিল্পের অবস্থান ধরে রাখতে সরকারীভাবে প্রণোদনাও দেয়া হয়েছে। উৎপাদন ও রফতানি ঠিক ছিল বলেই আমরা করোনা পরবর্তী সময়ে কিছু দেশের মতো ডলার সঙ্কটজনিত আতঙ্কে ভুগছি না। করোনাতেও পোশাক কারখানা চালু থাকায় বিদেশী ক্রেতারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। আমরা ইউরোপ, আমেরিকা থেকে নতুন বায়ার পেয়েছি। অনেকেই বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহী হয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভিয়েতনাম বাংলাদেশকে টপকে গিয়েছিল। কিন্তু যথাযথ পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ ফের তার অবস্থানে উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, এ রফতানি ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকায় একটি ভাল সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফতানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভাল সম্ভাবনার আরেকটি কারণ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আন্তর্জাতিক রুটের বহুমুখীকরণ। পোশাকের সবচেয়ে বড় ভোক্তা ইউরোপ এবং আমেরিকা। পোশাক এমনই পণ্য যে, এতে হাল ফ্যাশনের একটা ব্যাপার রয়েছে। অর্থাৎ ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে পোশাকও বদলায়। সেক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পণ্য পৌঁছাতে পারা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এতদিন ধরে বেশ প্রতিকূলতার মধ্যে ছিল। কারণ, আমাদের রফতানি পণ্য গন্তব্যে পৌঁছায় বিভিন্ন ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর হয়ে। এতে সময়ক্ষেপণের পাশাপাশি ব্যয়ও বেড়ে যায়। এখন চট্টগ্রাম থেকে ইউরোপের বন্দরে সরাসরি জাহাজ চলাচল করতে শুরু হয়েছে। চীনা রুটেও জাহাজ চালু হতে যাচ্ছে।

বিজিএমইএ নেতারা বলছেন, রফতানির প্রধান গন্তব্য ইউরোপ-আমেরিকা। আর কাঁচামাল আমদানি হয় প্রধানত চীন থেকে। এই দুই রুটে সরাসরি জাহাজ চলাচল নিয়মিত হয়ে গেলে আমদানি এবং রফতানি উভয়ক্ষেত্রে অনেক সময় বেচে যাবে, যার পোশাকের আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার জন্য খুবই প্রয়োজন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ তৃতীয় শীর্ষ তৈরি পোশাক রফতানিকারক। ওই বাজারে গত বছর বাংলাদেশ ৭১৫ কোটি ডলারের পোশাক রফতানি করে। ২০২০ সালের চেয়ে এই আয় প্রায় ৩৭ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের প্রথম মাসে সেই প্রবৃদ্ধিকেও টপকে গেছেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা।

More News

পদ্মা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বপ্ন পুরণের ঝিলিক লেগেছে প্রতিটি মানুষের মুখে। অবশেষে স্বপ্ন হলো সত্যি। চালু হলো বাঙালীর গর্ব পদ্মা সেতু।


আজ শনিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে লাখ লাখ মানুষের পদচারণা মুখর ও খুশির জোয়ার লাগা প্রমত্তা পদ্মা প্রান্তে সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বহুল প্রতিক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘোষণা করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ স্থাপনাটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উম্মোচন হলো যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দ্বার। খুলে গেলো বহুমুখি অর্থনৈতিক বিকাশের নতুন দিগন্ত। অবসান হলো প্রমত্তা পদ্মা পাড়ি দেয়ার হাজা........ বিস্তারিত

পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী

মামুন উর রশীদ :: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজতর করার লক্ষ্যে দেশের বৃহৎ নদীসমূহের ওপর দিয়ে সেতু নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁর সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালের ৪ জুলাই মানুষের স্বপ্নের পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ২০১৫ সালে দেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করার দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। জাতির আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্বাধীনতা পরবর........ বিস্তারিত

সেতুর চেয়েও বড় সেতুর চেয়েও বড়

ওবায়দুল কবির :: বিশ্বের কোন প্রকল্প নিয়ে এত আলোচনা হয়নি। পড়তে হয়নি এত প্রতিরোধের মুখে। এত ষড়যন্ত্র, অভিযোগ, নেতিবাচক বক্তব্য, গুজব-যেন রূপকথার গল্প। আবার কখন যে নেতিবাচক বক্তব্য ধীরে ধীরে ইতিবাচক হয়ে উঠেছে, ‘তোমার’ থেকে হয়ে গেছে ‘আমাদের’, শুরু হয়েছে কৃতিত্ব নেয়ার প্রতিযোগিতা, তাও এক বিস্ময়। পদ্মা সেতুর কথাই বলছি। এটি শুধু একটি রড-কংক্রিট-ইস্পাতে নির্মিত সেতু নয়, সেতু থেকে আরও বড় কিছু। বাঙালীর আবেগ, উন্নত জীবনের স্বপ্ন, উন্নয়নের উপাখ্যান, অনন্য ভালবাসা, আরও অনেককিছু। আজ এই বহুল আলোচিত সেতুর উদ্বোধনের দিন। কোট........ বিস্তারিত

চ্যালেঞ্জ জয়ে স্বপ্ন পূরণ, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আজ চ্যালেঞ্জ জয়ে স্বপ্ন পূরণ, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আজ

কাওসার রহমান :: স্বপ্ন এখন সত্যি। এদেশের মানুষ দীর্ঘ সাত বছর ধরে যে স্বপ্ন দেখছিল, পদ্মা নদীর ওপরও সেতু হবে, সেই স্বপ্ন এখন আর স্বপ্ন নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা। পুরো জাতির স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে আজ। সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন। উদ্বোধন হচ্ছে আজ শনিবার সকাল ১০টায়। শেষ হচ্ছে অপেক্ষার দীর্ঘ প্রহর। যে স্বপ্ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মূল সেতুর নির্মাণ ও নদীশাসন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন, তাঁর হাত দিয়েই আজ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর। এর সকল কৃতিত্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হা........ বিস্তারিত

দেশের অগ্রযাত্রা আর কেউ থামাতে পারবে না - প্রধানমন্ত্রী দেশের অগ্রযাত্রা আর কেউ থামাতে পারবে না - প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দেশের মানুষের যে কোন ত্যাগ স্বীকারে তাঁর সবসময় প্রস্তুত থাকার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, সরকারের ধারাবাহিকতা নিয়ে দেশ চলতে থাকলে এদেশের অগ্রযাত্রা আর কেউ থামাতে বা রুখতে পারবে না। আর ধারাবাহিক গণতন্ত্র আছে বলেই বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। গণমানুষের সমর্থন নিয়ে আমরা পদ্মা সেতুর নির্মাণ নিজেদের অর্থায়নে করতে পেরেছি। ঠিক এভাবেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আর কখনও বাংলাদেশ পরমুখাপেক্ষী হবে না, কারো কাছে হাত পেতে চলবে না। বাংলাদেশের জনগণকে আমি স্যালুট করি। ইনশাআল্লাহ, জনগণের সেবা ক........ বিস্তারিত

আগামী নির্বাচনে জনগণ নৌকাই বেছে নেবে - আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আগামী নির্বাচনে জনগণ নৌকাই বেছে নেবে - আওয়ামী লীগ সভানেত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনেও দেশের জনগণ নৌকাকে বেছে নেবে এমন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশের যা কিছু অর্জন তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এসেছে। বিএনপির হৃদয়ে তো পাকিস্তান, এরা দেশের ভাল চাইবে না এটাই স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে আসছে। দেশবাসীও জানে নৌকা আওয়ামী লীগের প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক- সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তাই নৌকা ছাড়া তাদের বিকল্প নেই, গতি নেই। কেননা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে নিজের ভাগ্য গড়ার জন্য নয় বরং মানুষের ভাগ্য গড়তে। জন্মলগ্ন থেক........ বিস্তারিত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাস্ক পরার নির্দেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাস্ক পরার নির্দেশ

দেশে আবারও করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) মাউশির সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) রূপক রায়ের সই করা নির্দেশনা থে........ বিস্তারিত

২৩ জুন, ২০২২ : ১৪.৩২ হারে আজ শনাক্ত ১৩১৯ ২৩ জুন, ২০২২ : ১৪.৩২ হারে আজ শনাক্ত ১৩১৯

২৪ ঘণ্টায় ৯ হাজার ২১৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ৯ হাজার ২১৪টি নমুনা। এতে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩১৯ জনের। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। মহামারীর শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।


গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৩১৯ জন। এই সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে একজনের। ফলে মোট মারা যাওয়ার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ১৩৫ জনে। আর মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৬০ হাজার ৫২৮ জনে। শনাক্তের হার ১৪ ........ বিস্তারিত

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবার বন্যাটা একটু বড় আকারে আসবে এমন আশঙ্কার কথা