জনশক্তি রফতানিতে রেকর্ড, ৪ মাসে বিদেশ গেলেন সোয়া ৪ লাখ শ্রমিক

জনশক্তি রফতানিতে রেকর্ড, ৪ মাসে বিদেশ গেলেন সোয়া ৪ লাখ শ্রমিক

উন্নত দেশে প্রশিক্ষিতদের চাহিদা বাড়ছে; দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে ৭০ সেন্টারে প্রশিক্ষণ, রেমিটেন্সের প্রবাহ বাড়াতে, বাজেটে আরও প্রণোদনা আসছে

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় জনশক্তি রফতানিতে সুবাতাস বইছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে রেকর্ড পরিমাণ জনশক্তি রফতানি হয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে দক্ষ শ্রমশক্তি রফতানির সুযোগ বাড়ায় এই বছর রেমিটেন্স আয়ের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। আগামী বাজেটেও রেমিটেন্সের প্রবাহ বাড়াতে প্রণোদনা ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। এছাড়া শর্তের বেড়াজাল কাটিয়ে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো শুরু হলে শ্রম রফতানিতে নতুন মাত্রা পাবে। ইতোমধ্যে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩৫ দশমিক ৬১ শতাংশ বেশি শ্রমিক দেশের বাইরে গেছেন। পুরুষের সঙ্গে নারী শ্রমিকের বিদেশযাত্রাও রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। রেমিটেন্সে গতি আনতে সরকার দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তির ওপর জোর দিচ্ছে। সবমিলে দেশে বিপুল পরিমাণ রেমিটেন্স হাতছানি দিচ্ছে।

বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে (জানুয়ারি থেকে এপ্রিল) মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৫৮ শ্রমিক বাইরের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছেড়েছে। যা গত বছরে একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৮১ হাজার ৪০ জন বেশি। অর্থাৎ আগের চেয়ে একই সময়ের তুলনায় ১৩৫ দশমিক ৬১ শতাংশ শ্রমিক দেশ ছেড়েছে। তাদের মধ্যে জানুয়ারিতে ১ লাখ ৯ হাজার ৬৯৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৯২ হাজার ৫৬৯ জন, মার্চে ১ লাখ ২০ হাজার ৩১৬ জন এবং এপ্রিলে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৭৫ শ্রমিক বিদেশে গেছেন। গত চার মাসের শ্রমিক রফতানির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ২০২২ সালে রেকর্ড পরিমাণ জনশক্তি রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে তাদের পাঠানো রেমিটেন্সে দেশের রিজার্ভ আরও সমৃদ্ধ হবে।

বিএমইটির তথ্যানুসারে, ২০২২ সালের চার মাসে মূলত বিশ্বের ২০টি দেশে শ্রমিক কাজে গেছে। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই গেছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৫৮৪ জন, যা মোট জনশক্তি রফতানির ৬১ শতাংশ। এছাড়া ওমানে ৫৬ হাজার ৮৩০, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫১ হাজার ৫৩১ জন, সিঙ্গাপুরে ১৮ হাজার ৬০৬, জর্দানে ৬ হাজার ৬৫৪ এবং কাতারে ৬ হাজার ২৪১ জন গেছেন। করোনা পরিস্থিতিতে গত ২০২১ সালে মোট ৬ লাখ ১৭ হাজার ২০৯ শ্রমিক বিদেশে গিয়েছিল। গত ২০২০ সালে ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৯ শ্রমিক বিদেশে গিয়েছিল।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে বাজেটে নতুন প্যাকেজ আসছে বলে ঘোষণা করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেছেন, নতুন বাজেটে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে ৩ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া হবে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে প্রণোদনা বাড়ানোর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। আমরা এবার এই প্রণোদনা আড়াই শতাংশ থেকে বাড়িয়ে তিন শতাংশ করব। নতুন বাজেটে প্রণোদনা বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করা হলে আগামী ১ জুলাই থেকে ১০০ টাকা দেশে পাঠালে ৩ টাকা প্রণোদনা পাওয়া যাবে। সরকারের প্রণোদনার পাশাপাশি প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত প্রণোদনা দেয়ার জন্য নতুন বাজেটে আহ্বান জানানো হবে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে রেমিটেন্সে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। ২০২১ সাল পর্যন্ত ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া হয়। ওই সময় পর্যন্ত প্রবাসীরা ১০০ টাকা দেশে পাঠালে ২ টাকা প্রণোদনা পেতেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে প্রণোদনা বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়। প্রবাসীরা এখন ১০০ টাকা দেশে পাঠালে আড়াই টাকা প্রণোদনা পাচ্ছেন।

অন্যদিকে শ্রমবাজারে আশা জাগিয়েও মালয়েশিয়াতে শ্রমিক পাঠানো শুরু হয়নি। শ্রমিক পাঠাতে কয়েকটি কোম্পানিকে নির্ধারণ করে দেয়াসহ বেশ কয়েকটি নতুন শর্তারোপ করায় মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়াটি ঝুলে আছে। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার মধ্যে ইতোমধ্যে কয়েকবার বৈঠক হলেও কোন সুরাহা হয়নি। সময়মতো শ্রমিক না পেয়ে মালয়েশিয়াও শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভারতসহ বিভিন্ন বিকল্প দেশ থেকে শ্রমিক আমদানির চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ সরকার এখনও সেখানে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে আশাবাদী।

বিএমইটির মহাপরিচালক শহিদুল আলম বলেন, সরকার আশা করছে চলতি বছরে রেকর্ড পরিমাণ শ্রমিক বিদেশ গমনের সুযোগ পাবে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় পৃথিবীর সব দেশেই জনশক্তির চাহিদা বেড়েছে। সবকিছুই স্বাভাবিক হয়ে আসছে। তিনি আরও বলেন, চলতি বছরে যে পরিমাণ শ্রমিক বিদেশ পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার চেয়ে দ্বিগুণ পাঠানো সম্ভব হয়েছে। এখনও বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের চাহিদাপত্র আসছে। এটি সারাবছরই অব্যাহত থাকতে পারে।

শহিদুল আলম আরও বলেন, শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করা হচ্ছে। বেশি আয়ের জন্য দক্ষ শ্রমিক গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শ্রমিকরা উন্নত দেশগুলোতে গিয়ে খরচের তুলনায় বেশি আয় করতে পারবে। গ্রিস, ইতালি এবং রোমানিয়ার মতো উন্নত দেশে নতুন করে শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বলেন, শ্রমিক নিয়োগে ঝামেলা, ঝঞ্ঝাট এবং ভোগান্তি অবসানে অনলাইন ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে।

বিএমইটির মহাপরিচালক বলেন, শ্রমিকদের দক্ষ বানাতে ইতোমধ্যে দেশের ৭০টি কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ চলছে। শুধু রাজধানীতেই ৩টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি জেলায় একটি করে কেন্দ্র রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার চলতি বছরে রেকর্ড পরিমাণ শ্রমিক পাঠাতে চায়। তবে শুধু বিএমইটি কাজ করলেই চলবে না, পাসপোর্ট অধিদফতর এবং ব্যাংকগুলোকেও শ্রমিকদের বিদেশে পাঠাতে যথাসময়ে টাকার জোগান দিতে হবে।

এদিকে ২০২২ সালের প্রথম চার মাসেই নারী জনশক্তি রফতানি আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে। সব মিলিয়ে গত চার মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ নিয়ে গেছেন ৪৩ হাজার ৬১০ নারী। মহামারী করোনার প্রভাব কেটে যাওয়ায় পুরুষের পাশাপাশি নারীদের চাহিদাও বেড়েছে। ডাটাবেজ তৈরি হওয়ায় শ্রমিক রফতানিতে হয়রানি ও প্রতারণার প্রবণতা কমে আসছে।

বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ নিয়ে গেছেন ৪৩ হাজার ৬১০ নারী। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে গেছেন ১০ হাজার ২৯০ জন, ফেব্রুয়ারিতে গেছেন ১০ হাজার ৬১২ জন। মার্চে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ১১ হাজার ২১১ জন। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে এই সংখ্যা আরেকটু বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ৪১৭ জন।

পুরুষের মতোই সৌদি আরবেই সবচেয়ে বেশি নারী শ্রমিক গেছে। দেশটিতে গৃহকর্মী থেকে শুরু করে নানা খাতে দেশটিতে এই চার মাসে গেছেন ২৭ হাজার ৩১৯ নারী কর্মী, যা মোট নারী জনশক্তি রফতানির ৬২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নারীর গন্তব্য ছিল ওমান। এই দেশটিতে গেছেন ৭ হাজার ৯৭৫ নারী কর্মী, যা মোট নারী জনশক্তি রফতানির ১৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৪৯৮ বা প্রায় ১৫ শতাংশ নারী গেছেন জর্দানে। কাতারে ৭৯০ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৬৪৯ জন, লেবাননে ৮৮ জন, কুয়েতে ৩৭ জন, মরিশাসে ২৮ জন, সিঙ্গাপুরে ২৪ জন ও লন্ডনে গেছেন ১৩ নারী কর্মী। এর বাইরে মালয়েশিয়ায় ৮ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৭ জন, জাপানে ৩ জন, ইতালিতে ২ জন এবং ১৬৯ নারী কর্মী কাজ নিয়ে গেছেন অন্যান্য দেশে। মূলত তৈরি পোশাক শিল্প, নার্সিং ও গৃহকর্মীর কাজগুলোর জন্য বাংলাদেশ থেকে নারী কর্মীদের নিয়োগ দেয়া হয় বেশি।

একসময় বাহরাইন, লেবানন, জর্দান, হংকংয়ের মতো দেশে প্রচুর নারীকর্মী পাঠানো হতো। তবে সেসব দেশে জনশক্তি রফতানি এক রকম বন্ধই হয়ে গেছে। গত চার মাসের হিসাবে দেখা গেছে, বাহরাইনে একজন নারী কর্মীও পাঠানো যায়নি। লেবাননে ৮৮ জন গেলেও লিবিয়া, ইরাক, ব্রুনেই, হংকং, সুদান ও সাইপ্রাসে একজন নারী কর্মীও যাননি।

বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো টাকা। তাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রাই রেমিটেন্সে বড় প্রভাব ফেলছে। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে মোট রেমিটেন্স এসেছে ২২ বিলিয়ন ডলার। করোনা পরবর্তী বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে আমদানি খরচ বেড়েছে। এই কারণে রফতানি আয়েও প্রভাব ফেলছে। যার কারণে রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৪১ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর প্রবণতাটি খুবই ইতিবাচক। প্রবাসীদের গত এপ্রিল মাসে বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার। যা গত বছরে একই মাসের সময়ের তুলনায় ১৪৯ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন বেশি। মার্চে রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন। ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ১ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। জানুয়ারি মাসে ১ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার, যা আগে একই মাসের তুলনায় ৭৩ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন ডলার বেশি। ডিসেম্বর মাসে রেমিটেন্সের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ গত চার মাসেই আগের তুলনায় রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে।

২০১৯ সালে অতিমারী করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশের শ্রমবাজার। অতিমারীর আগের বছর ২০১৯ সালে ৭ লাখ ১৫৯ কর্মী কাজ নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন। করোনার ধাক্কায় ২০২০ সালে তা ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৯ জনে নেমে আসে। তবে ২০২১ সালে ধীরে ধীরে তা আবার আলোর মুখ দেখতে শুরু করে; যা বছরজুড়েই গতিতে ছিল। মহামারীর আগের সময়ের গতিতে ফিরেছে। বিএমইটির রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯৭৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৩০ লাখ বাংলাদেশী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজে গেছেন। ২০২২ সালে শ্রমিক রফতানির সব রেকর্ডই ছাড়িয়ে যাবে।

জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, জনশক্তি রফতানিতেও সুবাতাস বইছে। গত চার মাসে আগের বছরে একই সময়ের তুলনায় রেকর্ড শ্রমিক দেশের বাইরে গেছেন। তিন বছর পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে; ফের শ্রমিক যাবে সেখানে। ডিসেম্বর মাসে চুক্তি হলেও এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো শুরু হয়নি। বেশ কিছু জটিলতার কারণে শ্রমিক পাঠানো যাচ্ছে না। দেশের স্বার্থে দ্রুত জটিলতা কাটানোর দাবি জানান তিনি। জনকন্ঠ।

 

More News

পদ্মা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বপ্ন পুরণের ঝিলিক লেগেছে প্রতিটি মানুষের মুখে। অবশেষে স্বপ্ন হলো সত্যি। চালু হলো বাঙালীর গর্ব পদ্মা সেতু।


আজ শনিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে লাখ লাখ মানুষের পদচারণা মুখর ও খুশির জোয়ার লাগা প্রমত্তা পদ্মা প্রান্তে সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বহুল প্রতিক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘোষণা করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ স্থাপনাটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উম্মোচন হলো যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দ্বার। খুলে গেলো বহুমুখি অর্থনৈতিক বিকাশের নতুন দিগন্ত। অবসান হলো প্রমত্তা পদ্মা পাড়ি দেয়ার হাজা........ বিস্তারিত

পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী

মামুন উর রশীদ :: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজতর করার লক্ষ্যে দেশের বৃহৎ নদীসমূহের ওপর দিয়ে সেতু নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁর সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালের ৪ জুলাই মানুষের স্বপ্নের পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ২০১৫ সালে দেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করার দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। জাতির আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্বাধীনতা পরবর........ বিস্তারিত

সেতুর চেয়েও বড় সেতুর চেয়েও বড়

ওবায়দুল কবির :: বিশ্বের কোন প্রকল্প নিয়ে এত আলোচনা হয়নি। পড়তে হয়নি এত প্রতিরোধের মুখে। এত ষড়যন্ত্র, অভিযোগ, নেতিবাচক বক্তব্য, গুজব-যেন রূপকথার গল্প। আবার কখন যে নেতিবাচক বক্তব্য ধীরে ধীরে ইতিবাচক হয়ে উঠেছে, ‘তোমার’ থেকে হয়ে গেছে ‘আমাদের’, শুরু হয়েছে কৃতিত্ব নেয়ার প্রতিযোগিতা, তাও এক বিস্ময়। পদ্মা সেতুর কথাই বলছি। এটি শুধু একটি রড-কংক্রিট-ইস্পাতে নির্মিত সেতু নয়, সেতু থেকে আরও বড় কিছু। বাঙালীর আবেগ, উন্নত জীবনের স্বপ্ন, উন্নয়নের উপাখ্যান, অনন্য ভালবাসা, আরও অনেককিছু। আজ এই বহুল আলোচিত সেতুর উদ্বোধনের দিন। কোট........ বিস্তারিত

চ্যালেঞ্জ জয়ে স্বপ্ন পূরণ, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আজ চ্যালেঞ্জ জয়ে স্বপ্ন পূরণ, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আজ

কাওসার রহমান :: স্বপ্ন এখন সত্যি। এদেশের মানুষ দীর্ঘ সাত বছর ধরে যে স্বপ্ন দেখছিল, পদ্মা নদীর ওপরও সেতু হবে, সেই স্বপ্ন এখন আর স্বপ্ন নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা। পুরো জাতির স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে আজ। সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন। উদ্বোধন হচ্ছে আজ শনিবার সকাল ১০টায়। শেষ হচ্ছে অপেক্ষার দীর্ঘ প্রহর। যে স্বপ্ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মূল সেতুর নির্মাণ ও নদীশাসন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন, তাঁর হাত দিয়েই আজ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর। এর সকল কৃতিত্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হা........ বিস্তারিত

দেশের অগ্রযাত্রা আর কেউ থামাতে পারবে না - প্রধানমন্ত্রী দেশের অগ্রযাত্রা আর কেউ থামাতে পারবে না - প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দেশের মানুষের যে কোন ত্যাগ স্বীকারে তাঁর সবসময় প্রস্তুত থাকার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, সরকারের ধারাবাহিকতা নিয়ে দেশ চলতে থাকলে এদেশের অগ্রযাত্রা আর কেউ থামাতে বা রুখতে পারবে না। আর ধারাবাহিক গণতন্ত্র আছে বলেই বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। গণমানুষের সমর্থন নিয়ে আমরা পদ্মা সেতুর নির্মাণ নিজেদের অর্থায়নে করতে পেরেছি। ঠিক এভাবেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আর কখনও বাংলাদেশ পরমুখাপেক্ষী হবে না, কারো কাছে হাত পেতে চলবে না। বাংলাদেশের জনগণকে আমি স্যালুট করি। ইনশাআল্লাহ, জনগণের সেবা ক........ বিস্তারিত

আগামী নির্বাচনে জনগণ নৌকাই বেছে নেবে - আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আগামী নির্বাচনে জনগণ নৌকাই বেছে নেবে - আওয়ামী লীগ সভানেত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনেও দেশের জনগণ নৌকাকে বেছে নেবে এমন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশের যা কিছু অর্জন তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এসেছে। বিএনপির হৃদয়ে তো পাকিস্তান, এরা দেশের ভাল চাইবে না এটাই স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে আসছে। দেশবাসীও জানে নৌকা আওয়ামী লীগের প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক- সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তাই নৌকা ছাড়া তাদের বিকল্প নেই, গতি নেই। কেননা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে নিজের ভাগ্য গড়ার জন্য নয় বরং মানুষের ভাগ্য গড়তে। জন্মলগ্ন থেক........ বিস্তারিত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাস্ক পরার নির্দেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাস্ক পরার নির্দেশ

দেশে আবারও করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) মাউশির সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) রূপক রায়ের সই করা নির্দেশনা থে........ বিস্তারিত

২৩ জুন, ২০২২ : ১৪.৩২ হারে আজ শনাক্ত ১৩১৯ ২৩ জুন, ২০২২ : ১৪.৩২ হারে আজ শনাক্ত ১৩১৯

২৪ ঘণ্টায় ৯ হাজার ২১৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ৯ হাজার ২১৪টি নমুনা। এতে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩১৯ জনের। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। মহামারীর শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।


গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৩১৯ জন। এই সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে একজনের। ফলে মোট মারা যাওয়ার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ১৩৫ জনে। আর মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৬০ হাজার ৫২৮ জনে। শনাক্তের হার ১৪ ........ বিস্তারিত

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবার বন্যাটা একটু বড় আকারে আসবে এমন আশঙ্কার কথা