অস্থির ভোগ্যপণ্যের বাজার, রেকর্ড দামে ১৭ পণ্য

অস্থির ভোগ্যপণ্যের বাজার,  রেকর্ড দামে ১৭ পণ্য

করোনা মহামারীর পর এবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে অস্থির হয়ে পড়েছে ভোগ্যপণ্যের বাজার। দ্রব্যমূল্য বাড়ায় কষ্টে আছেন সাধারণ মানুষ। দেশে এখন রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে ১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ভোগ্যপণ্য। নিত্যপণ্যের দাম এত বেড়েছে যে, চাল কিনলে ফুরিয়ে যাচ্ছে লবণের পয়সা। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব, অন্যদিকে নিত্যপণ্যের বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি-সবমিলিয়ে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস এখন চরমে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে খ্যাত পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ডাল, ছোলা, শুকনো মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচ ধনে, জিরা, আদা, হলুদ, তেজপাতা, সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, চিনি ও খাবার লবণ গরিব মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এসব পণ্য কিনতে চাপে আছেন নি¤œ ও মধ্যবিত্তরাও। এর পাশাপাশি দেশের প্রধান খাদ্যপণ্য চাল, আটা ও ময়দা বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। দ্রবমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তা স্বার্থে দেশে আটটি আইন ও বিপণন আদেশ থাকলেও তা মানছেন না ব্যবসায়ীরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনেরই যথাযথ প্রয়োগ নেই। আর এ কারণেও দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারী একাধিক উদ্যোগ থাকলেও বাজারে তেমন প্রভাব পড়েনি। হু হ করে বাড়ছে জিনিসপত্রের দাম।

জানা গেছে, হাওড়ে আগাম বন্যার কারণে এবার ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। টাকার বিপরীতে ডলারের দামে রেকর্ড হওয়ার ফলে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়া, বিশ্ব বাজারে ভোজ্যতেল জ্বালানি তেলের দাম বাড়তি, অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারসাজি, ভারতের গম রফতানি বন্ধের খবরসহ নানা কারণে দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজারে এখন অস্থিরতা বিরাজ করছে। দ্রব্যমূল্যের কারণে সব শ্রেণীর মানুষ এখন চাপের মুখে পড়েছেন। তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। এতে করে কষ্ট বেড়েছে নি¤œ ও মধ্যম আয়ের মানুষের। অথচ ভোগ্যপণ্য নিয়ন্ত্রণে দেশে আটটির বেশি আইন রয়েছে। এছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজার ব্যবস্থাপনা, তদারকির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেল, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের দ্রব্যমূল্য মনিটরিং সেল, খাদ্য অধিদফতর, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদসহ সরকারের একাধিক বিভাগ ও প্রতিষ্ঠান আছে। কিন্তু মাঝেমধ্যে বাজার পরিদর্শন, শহরাঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কিছু অভিযান-জরিমানার মধ্যেই তাদের কর্মতৎপরতা সীমাবদ্ধ। ফলে ভোগ্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরে আসছে না।

এদিকে সরকারী বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, গত এক বছরে ৭ থেকে প্রায় ৬১ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে ভোজ্যতেল, ডাল, আদা ও রসুনসহ বিভিন্ন আমদানি করা ভোগ্যপণ্যের। এক বছর আগে এক লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১২৪-১২৬ টাকায় বিক্রি হলেও এখন সেই একই পরিমাণ সয়াবিন কিনতে হচ্ছে ১৯০ টাকায়। একইভাবে প্রতিলিটার পাম অয়েল খোলা ১১০-১১৪ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা কিনতে ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে ১৭০-১৭৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতিলিটার সয়াবিন ৪৮ শতাংশ এবং পাম অয়েলে ৫৫ শতাংশ দাম বেড়েছে গত এক বছরে। এর পাশাপাশি মানভেদে প্রতিকেজি মসুর ডালে ৪৫-৫২ শতাংশ দাম বেড়ে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১৩০ টাকায়। প্রতিকেজি পেঁয়াজে ১৯ শতাংশ দাম বেড়ে ৪৫-৫০ টাকা, প্রতিকেজি রসুনে ৪৩-৪৫ শতাংশ দাম বেড়ে ১৬০-১৮০ টাকা, চিনিতে ৭ শতাংশ দাম বেড়ে ৭৮-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। এছাড়া প্রতিকেজি খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৪২-৪৫ এবং গত এক বছরে দাম বৃদ্ধির হার প্রায় ৪০ শতাংশ। দাম বেড়ে প্রতিকেজি খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায় এবং দাম বৃদ্ধির হার ৬১ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। শুধু তাই নয় প্রতিকেজি মোটা চালে গত এক বছরে ৫ শতাংশ দাম বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৪৮ টাকায়। একই সঙ্গে সরু চালে ৮ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়ে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি চাল ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আদা, মসলাপাতি ও মাছ-মাংস চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিটি ভোগ্যপণ্য এখন রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে ভোগ্যপণ্যের বাজারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনেরই যথাযথ প্রয়োগ নেই এবং সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারণে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। বাজারে অতিরিক্ত মুনাফাকারী, অননুমোদিত পরিমাণে পণ্য গুদামজাতকারী, অবৈধ আড়তদার, সংগঠিত সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজ থেকে শুরু করে খুচরা ব্যবসায়ী পর্যন্ত যারা নানা উপায়ে পণ্যের দাম অস্থিতিশীল করে তাদের প্রতিরোধে সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন-পুরনো আটটির বেশি আইন আছে। পুরনো আইনগুলোর মধ্যে দি এ্যাসেনশিয়াল আর্টিক্যালস (প্রাইস কন্ট্রোল এ্যান্ড এ্যান্টি-হোর্ডিং) এ্যাক্ট ১৯৫৩, দ্য কন্ট্রোল অব এ্যাসেনশিয়াল কমোডিটিস এ্যাক্ট ১৯৫৬, অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্যাদি নিয়ন্ত্রণ আদেশ ১৯৮১, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশ ২০১১ অন্যতম। কিন্তু এসব আইনের এখন প্রয়োগ নেই বললেই চলে। নতুন আইনের মধ্যে ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯, নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩, প্রতিযোগিতা আইন ২০১২, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিধিমালা ২০২০ অন্যতম। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অস্থির বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্থানীয় বাজারে কারসাজি ঠেকাতে এবং ভোগ্য পণ্যের দাম ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে রাখতে প্রচলিত আইনের যথাযথ প্রয়োগের কথা বলছেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ। এ প্রসঙ্গে তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, বিভিন্ন কারণে দেশে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে দেশীয় ব্যবসায়ীদেরও কারসাজি রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েল ফের রফতানি শুরু করেছে এবং ভারত থেকে সরকার টু সরকার গম আমদানি করা হবে। এছাড়া পেঁয়াজের দাম বাড়লে আবার আমদানি অনুমতি (আইপি) দিবে সরকার। তিনি বলেন এসব উদ্যোগের কারণে সামনের দিকে দাম বাড়ার তেমন কোন সুযোগ নেই। ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ কষ্টে আছেন বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, এজন্য সরকারীভাবে টিসিবিকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। আগামী জুন মাস থেকে টিসিবির কার্ডক্রম শুরু হচ্ছে। সারাদেশের এক কোটি মানুষ টিসিবির ভর্তুকি মূল্যের পণ্য কিনতে পারবেন। এর একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারে।

জানা গেছে, ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে গত ২০১১ সালে পেঁয়াজ, রসুন, লবণসহ ১৭টি পণ্যকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৫৬-এর আওতায় এসব পণ্যকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে এসব পণ্যের দাম বেঁধে দেয়ার ক্ষমতা অর্জন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ১৯৫৬ সালের আইনে বেশি কিছু পণ্য অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে ঘোষণা করা আছে। কিন্তু গত কয়েক বছরে দেশে পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেল নিয়ে যা হয়েছে তা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী কাজ করছেন ব্যবসায়ীরা। অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারণে প্রতিকেজি পেঁয়াজে এক সময় ২০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে ভোক্তাকে। আর সর্বশেষ ভোজ্যতেল নিয়ে সবচেয়ে বড় কারসাজি হয়েছে দেশে। এ কারণে এবার ঈদের আগে ও পরে অনেক সাধারণ মানুষ ভোজ্যতেল কিনতে পারেনি। এখন লাখ লাখ লিটার অবৈধভাবে মজুদকৃত ভোজ্যতেল উদ্ধার করছে প্রশাসন। এ প্রসঙ্গে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ও বাজার বিশেষজ্ঞ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাজারে ভোজ্যতেলের দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকার উদ্যোগ নিলেও তা কাজে আসেনি। তবে এখন নতুন দামে ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, ভোক্তা ও বিক্রেতা পর্যায়ে যৌক্তিক দামে এ পণ্য বিক্রি এখন চ্যালেঞ্জ। পেঁয়াজসহ ১৭টি অত্যাবশ্যকীয় কৃষিপণ্য বাজারে সরবরাহের নিয়মের ক্ষেত্রে জোরালো পদক্ষেপ নেয়া উচিত। এক্ষেত্রে আমদানিকারক, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীর নিবন্ধন থাকা এবং তাদের লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে তাদের কেনাবেচার পাকা রসিদ থাকা দরকার। এটি হলে প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে আইনের কাঠামোতে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। মজুদদার ও অসাধু ব্যবসায়ীদের অযাচিত মুনাফা করার সুযোগ থাকবে না। এজন্য এখনই জরুরী বিধিবদ্ধ সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে আসা দরকার। এদিকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিবেশ ও খাদ্যাভ্যাসের নিরিখে ভোগ্যপণ্য ধরা হয় নয়টি পণ্যকে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তের দৈনন্দিন প্রধান চাহিদা অনুযায়ী চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, আটা, ময়দা, লবণ ও দুধ রয়েছে এ তালিকায়। তবে মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্তের হিসাবে চাহিদার সংখ্যা কিছু বেশি। এর মধ্যে প্রধান ভোগ্যপণ্য হিসেবে ধরা হয় চাল, চিনি, গম, ডাল ও ভোজ্যতেলকে। দেশের বাজারে অতিপ্রয়োজনীয় এ পণ্যগুলো নিয়েই কারসাজি, মজুদ, দাম বাড়ানোর প্রবণতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে যেসব নিত্যপণ্য আমদানি করতে হয়, সেগুলো নিয়ে কারসাজির পরিমাণও বেশি। এসব নিয়ন্ত্রণে আমদানিনির্ভর অতি নিত্য ভোগ্যপণ্য বিপণন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় মজুদ প্রতিরোধ, কারসাজি করে মূল্যবৃদ্ধি ও কৃত্রিম সঙ্কট প্রতিরোধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি আইন প্রণয়ন করে। ২০১১ সালে জারি হয় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশ। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) প্রথা বাতিল করা হয়। সারা দেশে অঞ্চলভিত্তিক ডিলার নিয়োগ ও সমানুপাতে আমদানি করা পণ্য বিপণনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে শুরু থেকেই অনীহা ছিল ব্যবসায়ীদের। তবে বাস্তবায়নকারী সরকারী সংস্থাগুলোকেও তেমন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

ফলে আইন প্রণয়ন হলেও বন্ধ হয়নি অতি নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে কারসাজি। এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি জসিম উদ্দিন জনকণ্ঠকে বলেন, কোভিডের ধাক্কা কাটিয়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সব হিসাব-নিকাশ আবার পাল্টে দিয়েছে। ফলে দেশে দেশে চাহিদা বাড়ছে খাদ্যপণ্যের। এছাড়া রাশিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ শস্য উৎপাদনকারী উল্লেখযোগ্য দেশগুলোতে ডাল ও গমের মতো শস্যের ফলন কম হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কন্টেনার সঙ্কট। তেলের দাম ও কন্টেনার সঙ্কটের ফলে বেড়েছে জাহাজ ভাড়া। সব মিলিয়ে ভোগ্যপণ্যের বিশ্ববাজার এখন নাগালের বাইরে। জানা গেছে, ১৯৬৪ সালের এ্যাগ্রিকালচারাল প্রডিউস মার্কেটস রেগুলেশন এ্যাক্ট ও ১৯৮৫ সালের সংশোধিত বাজার নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৬(১) ও ১৬(২) ধারা মতে কৃষিজাত ও ভোগ্য পণ্যের ক্রয়মূল্য, বিক্রয়মূল্য ও মজুদ পরিস্থিতি তদারকির ক্ষমতা রয়েছে কৃষি বিপণন অধিদফতরের বাজার কর্মকর্তাদের। তারা সাধারণত আইনটির প্রয়োগ করেন না। তাছাড়া ১৯৫৬ সালের মজুদবিরোধী ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরিষ্কার নির্দেশনা রয়েছে যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কতটুকু মজুদ করা যাবে। আইনটিতে উৎপাদক, ভোক্তা ও বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষণেও ব্যবস্থা রয়েছে। তাছাড়া এ্যান্টি-হোর্ডিং এ্যাক্ট ও এ্যাসেনশিয়াল কমোডিটিস এ্যাক্ট মডিফাই করে ২০১১ সালে ১১৩ নম্বর এসআরওতে, বিশেষ করে মজুদবিরোধী আইনটি আরও কঠোর করা হয়। সেটিও কার্যকর হয় না। জনকণ্ঠ।

More News

পদ্মা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বপ্ন পুরণের ঝিলিক লেগেছে প্রতিটি মানুষের মুখে। অবশেষে স্বপ্ন হলো সত্যি। চালু হলো বাঙালীর গর্ব পদ্মা সেতু।


আজ শনিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে লাখ লাখ মানুষের পদচারণা মুখর ও খুশির জোয়ার লাগা প্রমত্তা পদ্মা প্রান্তে সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বহুল প্রতিক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘোষণা করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ স্থাপনাটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উম্মোচন হলো যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দ্বার। খুলে গেলো বহুমুখি অর্থনৈতিক বিকাশের নতুন দিগন্ত। অবসান হলো প্রমত্তা পদ্মা পাড়ি দেয়ার হাজা........ বিস্তারিত

পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী

মামুন উর রশীদ :: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজতর করার লক্ষ্যে দেশের বৃহৎ নদীসমূহের ওপর দিয়ে সেতু নির্মাণ করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁর সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০১ সালের ৪ জুলাই মানুষের স্বপ্নের পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং ২০১৫ সালে দেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করার দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। জাতির আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্বাধীনতা পরবর........ বিস্তারিত

সেতুর চেয়েও বড় সেতুর চেয়েও বড়

ওবায়দুল কবির :: বিশ্বের কোন প্রকল্প নিয়ে এত আলোচনা হয়নি। পড়তে হয়নি এত প্রতিরোধের মুখে। এত ষড়যন্ত্র, অভিযোগ, নেতিবাচক বক্তব্য, গুজব-যেন রূপকথার গল্প। আবার কখন যে নেতিবাচক বক্তব্য ধীরে ধীরে ইতিবাচক হয়ে উঠেছে, ‘তোমার’ থেকে হয়ে গেছে ‘আমাদের’, শুরু হয়েছে কৃতিত্ব নেয়ার প্রতিযোগিতা, তাও এক বিস্ময়। পদ্মা সেতুর কথাই বলছি। এটি শুধু একটি রড-কংক্রিট-ইস্পাতে নির্মিত সেতু নয়, সেতু থেকে আরও বড় কিছু। বাঙালীর আবেগ, উন্নত জীবনের স্বপ্ন, উন্নয়নের উপাখ্যান, অনন্য ভালবাসা, আরও অনেককিছু। আজ এই বহুল আলোচিত সেতুর উদ্বোধনের দিন। কোট........ বিস্তারিত

চ্যালেঞ্জ জয়ে স্বপ্ন পূরণ, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আজ চ্যালেঞ্জ জয়ে স্বপ্ন পূরণ, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আজ

কাওসার রহমান :: স্বপ্ন এখন সত্যি। এদেশের মানুষ দীর্ঘ সাত বছর ধরে যে স্বপ্ন দেখছিল, পদ্মা নদীর ওপরও সেতু হবে, সেই স্বপ্ন এখন আর স্বপ্ন নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা। পুরো জাতির স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে আজ। সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন। উদ্বোধন হচ্ছে আজ শনিবার সকাল ১০টায়। শেষ হচ্ছে অপেক্ষার দীর্ঘ প্রহর। যে স্বপ্ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মূল সেতুর নির্মাণ ও নদীশাসন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন, তাঁর হাত দিয়েই আজ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর। এর সকল কৃতিত্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হা........ বিস্তারিত

দেশের অগ্রযাত্রা আর কেউ থামাতে পারবে না - প্রধানমন্ত্রী দেশের অগ্রযাত্রা আর কেউ থামাতে পারবে না - প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দেশের মানুষের যে কোন ত্যাগ স্বীকারে তাঁর সবসময় প্রস্তুত থাকার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, সরকারের ধারাবাহিকতা নিয়ে দেশ চলতে থাকলে এদেশের অগ্রযাত্রা আর কেউ থামাতে বা রুখতে পারবে না। আর ধারাবাহিক গণতন্ত্র আছে বলেই বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। গণমানুষের সমর্থন নিয়ে আমরা পদ্মা সেতুর নির্মাণ নিজেদের অর্থায়নে করতে পেরেছি। ঠিক এভাবেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আর কখনও বাংলাদেশ পরমুখাপেক্ষী হবে না, কারো কাছে হাত পেতে চলবে না। বাংলাদেশের জনগণকে আমি স্যালুট করি। ইনশাআল্লাহ, জনগণের সেবা ক........ বিস্তারিত

আগামী নির্বাচনে জনগণ নৌকাই বেছে নেবে - আওয়ামী লীগ সভানেত্রী আগামী নির্বাচনে জনগণ নৌকাই বেছে নেবে - আওয়ামী লীগ সভানেত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনেও দেশের জনগণ নৌকাকে বেছে নেবে এমন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, দেশের যা কিছু অর্জন তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এসেছে। বিএনপির হৃদয়ে তো পাকিস্তান, এরা দেশের ভাল চাইবে না এটাই স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে আসছে। দেশবাসীও জানে নৌকা আওয়ামী লীগের প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক- সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তাই নৌকা ছাড়া তাদের বিকল্প নেই, গতি নেই। কেননা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে নিজের ভাগ্য গড়ার জন্য নয় বরং মানুষের ভাগ্য গড়তে। জন্মলগ্ন থেক........ বিস্তারিত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাস্ক পরার নির্দেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাস্ক পরার নির্দেশ

দেশে আবারও করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) মাউশির সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) রূপক রায়ের সই করা নির্দেশনা থে........ বিস্তারিত

২৩ জুন, ২০২২ : ১৪.৩২ হারে আজ শনাক্ত ১৩১৯ ২৩ জুন, ২০২২ : ১৪.৩২ হারে আজ শনাক্ত ১৩১৯

২৪ ঘণ্টায় ৯ হাজার ২১৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ৯ হাজার ২১৪টি নমুনা। এতে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩১৯ জনের। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। মহামারীর শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ।


গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৩১৯ জন। এই সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে একজনের। ফলে মোট মারা যাওয়ার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ১৩৫ জনে। আর মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৬০ হাজার ৫২৮ জনে। শনাক্তের হার ১৪ ........ বিস্তারিত

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবার বন্যাটা একটু বড় আকারে আসবে এমন আশঙ্কার কথা